অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে


আঙ্গুর নাহার মন্টি

ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

প্রজনন স্বাস্থ্য সকলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বয়োঃসন্ধিকালে আকস্মিক শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন কিশোর-কিশোরীদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ সময় তাদের বেড়ে উঠা ও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে নানা তথ্যের প্রয়োজন হয়। অথচ বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে প্রজনন ইস্যুটি এতোটাই স্পর্শকাতর যে এ সম্পর্কে আলোচনা করাকে লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হয়।

প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাবে ইস্যুটি আলোচনার জন্য নিরুৎসাহিত করা হয়। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সু্‌স্থভাবে বেড়ে উঠা, বয়োঃসন্ধিকালের যত্ন, সন্তান জন্মদানের জন্য গর্ভধারণ, পরিবার পরিকল্পনা ও পদ্ধতি নির্বাচন, স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্কসহ নানা বিষয়ে জানা, আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেয়াই যে প্রজনন স্বাস্থ্য সেটি আমরা অনেকেই জানি না। ফলে বাংলাদেশের নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই জীবনের এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করার চর্চা এখনো গড়ে উঠেনি।
এ প্রসঙ্গে ইউএসএআইডি’র জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, প্রজনন স্বাস্থ্য বলতে সাধারণত প্রজননের সঙ্গে অঙ্গগুলোর স্বাস্থ্যকে বুঝি। কিন্তু আমরা এভাবে যদি বলি তাহলে বিষয়টি খুব সংক্ষিপ্ত আকারে দেখা হয়। আসলে প্রজনন স্বাস্থ্য আমাদের সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে জড়িত। কারণ প্রজনন স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে সার্বিকভাবে সুস্থ থাকা যায় না। অথচ আমাদের এখানে প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে স্পষ্ট বোধ নেই। বরং এটি নিয়ে লুকোচুরি এবং চাপাচাপি থাকাতে কিছুটা অজ্ঞতা থেকে যায়। এই অজ্ঞতা থেকে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়।

প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যদি এভাবে দেখি প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা কি বা কিভাবে প্রজনন স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হয়। আমরা মনে করে থাকি, যখন কিশোর-কিশোরীরা পূর্ণ বয়স্ক মানুষ বা তরুন-তরুনী হয়, তখনই হয়তো প্রজনন স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হয়। ব্যাপারটি মোটেও তা নয়। এটি শৈশব থেকেই প্রজনন স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হয়। কারণ একটি শিশু যদি পুষ্টি ঠিকমতো না পায় তাহলে তার প্রজনন অঙ্গগুলো ঠিকমতো বেড়ে উঠবে না।

সবাইকে সচেতন করার জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ থাকলেও প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরী করা যায়নি। বয়োঃসন্ধিকাল থেকে শুরু করেনারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ হওয়া আর পুরুষের ক্ষেত্রে প্রজননে শারীরিক সক্ষমতা পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম বাংলাদেশের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার মধ্যেই রয়েছে। অথচ সঠিক তথ্য না জানার কারণে বেশিরভাগ মানুষ প্রজননস্বাস্থ্য সেবা নিতে আগ্রহী হচ্ছে না। তবে সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই।

XS
SM
MD
LG