অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের মূল জনস্বাস্থ্য সমস্যা ।


প্রায় সোয়া কোটির বেশী মানুষের বাস রাজধানী ঢাকায় । শত বছরের পুরোনো এই শহরে সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে সব বিষয়েই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে । ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং তৈরি হওয়া বিভিন্ন স্বাস্থ্য গত সমস্যা এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে আমাদের আজকের প্রতিবেদন ।

আমরা কথা বলেছি ইউএসএআইডি বাংলাদেশের,প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ড.সামিনা চৌধুরীর সাথে ।
জনস্বাস্থ্য বলতে তিনি শুধু একজনের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত দিকগুলো উন্নত করা সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা নয়,সর্বোপরি পুরো জনগোষ্ঠীর সাথে কাজ করাকেই বুঝিয়েছেন ।

বাংলাদেশে আয়তনের দিক থেকে মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী । সাথে রয়েছে সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ । এই অবস্থায় কি কি সমস্যা আমাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে জানতে চেয়েছিলাম ড. সামিনার কাছে ।
আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় দ্বায়িত্ব বোধের জায়গায় অনেকটা কাজ করতে হবে । স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত এমন সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব একটি বড় সমস্যা । পরিকল্পিত নগর সাথে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ যদি স্বাস্থ্যসম্মত না হয় তাহলে খুব সহজেই মানুষ রোগাক্রান্ত হবে যাতে করে জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব পড়বে ।


পাঁচ বছরের নিচে কমবয়সী শিশুদের মৃত্যুহার অনেকখানি কমলেও জন্মের একমাসের মধ্যে শিশু মৃত্যুহার এখনো উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হয় নি । ডাক্তার কিংবা প্রশিক্ষত ধাত্রী দ্বারা সন্তান জন্মদানের হার বাড়লেও হাসপাতাল এবং ক্লিনিক গুলোতে ব্যবস্থাপনার অভাবে রোগীরা সেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন যা সেবা গ্রহনে নিরুৎসাহিৎ হবার অন্যতম কারণ ।

এমডিজি গোল অর্জনে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে । তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গত দশ বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ মাতৃমৃত্যু হ্রাস এবং শিশুমৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা । একটি দেশের যে মূল সমস্যা অধিক জনসংখ্যা, সে দিক দিয়ে বাংলাদেশের কিছু অর্জন রয়েছে । এখন অনেকেই পরিবার পরিকল্পনা এবং জন্ম বিরতিকরন ব্যবস্থার দিকে ঝুকছেন । যার ফলস্বরুপ প্রজননক্ষম মহিলাদের সন্তান জন্মদানের হার অনেক খানি কমে এসেছে ।

তবুও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে । শিশু অপুষ্টির মাপকাঠিতে বাংলাদেশ এখনো পৃথিবীর প্রথম সারিতে । তবে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় যা কাটিয়ে উঠা সম্ভব খুব দ্রুত । সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সাথে সাথে সবার জন্য স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রতন্ত্য অঞ্চলের মানুষ যেন সঠিক স্বাস্থ্য সেবা পায় তার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে । জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় জোরদারে কার্যকর পদেক্ষেপ নেয়া হচ্ছে ।

আগামী চার দশকে দেশের জনসংখ্যা ২২ থেকে ২২.৫ কোটিতে পৌছবে বলে ধারনা করা হচ্ছে । যদিও সন্তান জন্মদানের হার কমে যাচ্ছে তবুও মাত্র অর্ধেক মহিলা জনগোষ্ঠী আধুনিক ও কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ব্যবহার করছে ।

মানুষ বাড়ছে সাথে বাড়ছে স্বাস্থ্যগত সহ নানা নাগরিক সমস্যা । তবে সমস্যা যত সমাধানও তত । সকলের সচেতনতা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্ভব সুন্দর সমাজ গঠন ।

শরীফ উল হক,
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার ।
সহযোগিতায় – ইউএসএআইডি এবং ভয়েস অব আমেরিকা ।
প্রযোজনায় – রেডিও টুডে প্রাইভেট লিমিটেড ।

XS
SM
MD
LG