অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আঙ্গুর নাহার মন্টি, ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৫। প্রতি বছর এই দিনটিতে নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অর্জন ও অগ্রগতি উদযাপনের পাশাপাশি নারীর প্রতি নির্যাতন, বৈষম্য ও অন্যায়ের একটি হিসেব করা হয়। মূল্যায়ন করা হয় নারীর শ্রম আর অবদান কতটা স্বীকৃতি পেলো। তাই দিনটি হয়ে উঠে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য নিরসনের জন্য নতুন করে শপথ নেয়ার দিন। এবারও সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন বলেন, এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘Make It Happens’ বা ‘সম্ভব করে তুলুন’। আর জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘Empowring Women Empowring Humanity: Picture it’ অর্থাৎ নারীর ক্ষমতায়ন মানেই মানবতার ক্ষমতায়ন, আমরা যেন সেটা কল্পনায় বা ছবি করে দেখতে পাই। সেই ছবি আমাদের কে দেখাবে? দেখাবে তো গণমাধ্যম।কিন্তু গণমাধ্যম তো তা দেখাচ্ছে না।

তিনি গণমাধ্যমে নারীর খবর প্রান্তিকদের মধ্যেও প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, আমরা গণমাধ্যম নিয়ে গতবছরের একটি বিশ্লেষণমূলক গবেষণায় গণমাধ্যমের খবরে নারীর উপস্থিতি কম পেয়েছি। আর গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলও খবরে প্রান্তিক। দেশের সিংহভাগ এলাকার জনগোষ্ঠী গণমাধ্যমে অদৃশ্য। তাই গণমাধ্যম থেকে নারীর সার্বিক চিত্র ভিজুয়ালাইজ করতে চাইলেও কেউ পারছেন না।

তবে নারীর ক্ষমতায়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধসহ বাংলাদেশের অনেক অর্জনও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে নারীর কিছু অর্জন রয়েছে। একইসঙ্গে দেখতে পাবো নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি। নারীর আয় বাড়েনি। নারীর কর্মের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাও বাড়েনি। এখনও নারীর নানা ধরণের উদপাদনমূলক শ্রম ও কাজের স্বীকৃতি মেলেনি।

বিশ্বায়ন ও উন্নয়নের এই যুগে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশিদার হয়েও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির তেমন পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাবা-মায়েরা কিন্তু সন্তান হিসেবে এখনও ছেলে সন্তানের জন্ম হোক সেটাই চাইছেন। নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার তার বিয়ে ও সন্তান লালন পালন সংক্রান্ত এবং তার সম্পত্তির অধিকার। এইগুলো পারিবারিক আইনের আওতাধীন হলেও সম্পত্তিতে নারীর সম অধিকার নেই। যতটুকু আছে সেটিও নিশ্চিত নয়। এসব কাঠামোগত বৈষম্য আমাদের আইনী ব্যবস্থার মাধ্যমে এমনভাবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে সেখানে ক্ষমতায়ন কতটা সম্ভব? এই কাঠামোগত বৈষম্যের পরিবর্তন না হলে নারীর অর্থাৎ পুরো মানবসমাজের সার্বিক ক্ষমতায়ন সম্ভব না।

এবারের বিশ্ব নারী দিবসে এই বৈষম্যের অবসান সম্ভব করে তোলার দাবি জানিয়ে গীতি আরা বলেন, প্রান্তিক করে রাখা মানুষদের গণমাধ্যমে নিয়ে আসুন। নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নের পথে ঘাটতিগুলো পরিস্কারভাবে তুলে ধরুন। নারী নির্যাতনের প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করে তুলে ধরুন। গণমাধ্যমের ভাষা ও ছবির মাধ্যমে নারীকে আরো অবমাননা না করে নারীর সত্যিকারের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখুন। গণমাধ্যমের দায়িত্ব এখানে সবচেয়ে বেশি। কারণ গণমাধ্যমই আমাদের দৃষ্টি ও অবস্থান তৈরী করছে।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নারী সমাজ ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু থেমে নেই নারীর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন। এর প্রতিরোধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আসুন এবারের নারী দিবসে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একযোগে নারীর প্রতি সকল বৈষম্য ও নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে একটি সম অধিকার ও সম মর্যাদার সমাজ প্রতিষ্ঠার শপথ নিই।

XS
SM
MD
LG