অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

২৩ মে আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস


২৩ মে আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস। ২০০৩ সালে জাতিসংঘ বাধাগ্রস্ত প্রসবজনিত ফিস্টুলা নিরসনে আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বছরই জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল –ইউএনএফপিএ এশিয়া, আফ্রিকা, আরব অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও ফিস্টুলা রোগীর সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করে। এর ১০ বছর পর ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়। এবারও ইউএনএফপিএ’র কর্মসূচি ‘ক্যাম্পেইন টু এন্ড ফিস্টুলা’র আওতায় বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

প্রসবজনিত ফিস্টুলা এমন একটি সমস্যা, যা একজন নারীকে সার্বক্ষণিক শারীরিক ও মানসিক কষ্টের পাশাপাশি তাকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার বিবাহিত নারীর মধ্যে ১ দশমিক ৬৯ জন প্রসবজনিত ফিস্টুলায় আক্রান্ত হন।
প্রসবজনিত ফিস্টুলা নিয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ফেরদৌসী ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাধাগ্রস্ত প্রসবের কারণে ফিস্টুলা আক্রান্ত নারীর অনবরত প্রস্রাব-পায়খানা ঝরতে থাকে। তার প্রস্রাবের কোন বেগ থাকে না। দুর্গন্ধের জন্য তার আশেপাশে যাওয়া যায় না। সারাক্ষণ প্রস্রাব ঝড়ার কারণে যোনীপথে চুলকানি হয়, ক্ষত তৈরী হয়। এতে নারীর জন্য দুর্বিসহ জীবন শুরু হয়।

অদক্ষ ধাত্রীর মাধ্যমে বাড়িতে জোরপূর্বক বা বাধাগ্রস্ত সন্তান প্রসবের কারণেই নারীকে ফিস্টুলার মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত নারীকে স্বামী ছেড়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা যায়। অথচ ফিস্টুলা চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়। বাংলাদেশে বিনামূল্যে ফিস্টুলা অপারেশন করা হয় জানিয়ে অধ্যাপক ফেরদৌসী ইসলাম বলেন, ফিস্টুলার চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন। যোনীপথ ও প্রস্রাবের পথকে আলাদা করে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি অপারেশনের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে দেয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টারসহ দেশের ১০টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনা খরচে ফিস্টুলা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। ফিস্টুলা চিকিৎসার পাশাপাশি প্রসবজনিত এই জটিলতাটি একেবারে নির্মূলে ডাক্তার, নার্স ও দক্ষ ধাত্রী প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সচেতনতামূলক কর্মসূচীও বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আঙ্গুর নাহার মন্টি, ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায়: ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

XS
SM
MD
LG