অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস - ২০১৬ ।
উন্নত কিংবা অনুন্নত দেশে, সমতল কিংবা পাহাড়ে, যুদ্ধ ক্ষেত্র কিংবা শান্ত জনপদে সেবিকাদের উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন । নিজেদের সীমাহীন আত্মত্যাগে অসুস্থ্যকে সুস্থ্য করে তুলে তৃপ্ত তারা । বিশ্বের নার্সদের শ্রদ্ধাজন আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’ খ্যাত ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলে’র জন্মদিন ১২ মে । তার প্রতি সম্মান জানাতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয় বিশ্ব নার্স দিবস হিসেবে ।

'স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংকট মোকাবেলায় নার্স : পরিবর্তনে এক সহায়ক শক্তি' এই প্রতিপাদ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও পালিত হয়েছে দিবসটি । বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের যুব সমাজকে বললেন,এ এক মহান পেশা । সারাবিশ্বের মানুষকে সেবা করার এক অনন্য মাধ্যম এই নার্সিং । তারই ধারাবাহিকতায়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে
দিবসটি উপলক্ষ্যে নার্সিং সেবা পরিদপ্তর ও বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) সহ অন্যান্য সংগঠন নানা কর্মসুচী পালন করেছে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চ্বত্তর থেকে বের হয় র‍্যালী । র‍্যালীতে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় । এছাড়াও দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ সমুহে উদযাপন করা হয় নার্স দিবস । কিন্ত বেসরকারী হাসপাতালের তুলনায় সরকারী হাসপাতালে নার্সদের সংকট রয়েছে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুসারে ডাক্তার-নার্সের অনুপাত ১:৩ হওয়ার কথা । সেখানে বাংলাদেশের চিত্র বিপরীত । বর্তমানে দেশে ৬৬ হাজারের কিছু বেশি রেজিস্টার্ড চিকিৎসক রয়েছেন । প্রটোকল অনুসারে সেখানে দুই লাখের বেশি নার্স থাকার কথা । কিন্তু বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে রেজিস্টার্ড নার্সের সংখ্যা মাত্র ৪১ হাজার । তার মধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি নার্স বেকার বলে জানালেন ফারুক হোসাইন । তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস এসোসিয়েশনের ।
এই সমস্যার সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছেন সরকারীভাবে আরো নতুন ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়ার । সাথে সাথে নার্সদের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করেছেন ।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা.ইকবাল আর্সনাল বলেন,ডাক্তারদের অনুপস্থিতিতে আমাদের নার্সারাই হয়ে উঠেন পীড়িতদের পরম নির্ভরতা । তাই তাদের প্রতি,বিশেষ নজর দেয়ার আহবান জানান সবাইকে ।

বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট নার্সের একটি বড় অংশ ধাত্রী হিসেবে কাজ করেন । তারা নিজেদের নিয়োজিত করেছেন মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নে । আরেকটি অংশ বিভিন্ন প্রশাসনিক বা দাফতরিক কাজে দায়িত্ব পালন করেন । ফলে প্রকৃত অর্থে রোগীর সেবায় নিয়োজিত নার্সের সংখ্যা অনেক কম । কিন্ত যে যেখানেই কর্মরত আছেন,আমাদের উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে তাদের প্রতি সম্মান দেখানো ।

শরীফ উল হক

ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা


XS
SM
MD
LG