অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্ব জুড়ে শিশুর অধিকার সুরক্ষায় ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকার কনভেনশন বা সনদ (সিআরসি) গৃহীত হয়। সেই থেকে প্রতি বছর ২০ নভেম্বর সার্বজনীন শিশু দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম সারির ২২টি দেশের অন্যতম যারা সিআরসি সনদ স্বাক্ষর করেছে।

সিআরসি স্বাক্ষর করার পর শিশুর অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার জাতীয় শিশু নীতিমালা ২০১১, শিশু আইন ২০১৩, জাতীয় শিক্ষা নীতিমালা ২০১০ এবং জাতীয় শিশু শ্রম নিরোধ নীতিমালা ২০১০ প্রনয়নসহ বিভিন্ন প্রশংসণীয় উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে দেশে শিশু শিক্ষার হার বেড়েছে, কমেছে শিশু মৃত্যহার, স্কুলে শারীরিক শাস্তি অবৈধ করা গেছে এবং শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকাও প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের শিশু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপার্সন এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু। বাংলাদেশের শিশুদের পরিস্থিতি বলতে, শিক্ষার ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশ স্কুলে যাচ্ছে। আবার ঝড়ে পড়ার হার ২০ শতাংশ। তাদের স্কুলে ধরে রাখার জন্য উদ্যোগ দরকার। কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ আছে, আরো ব্যাপকভাবে নিতে হবে।

শিশু মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফল। তবে পানিতে ডুবে, দুর্ঘটনায়, হত্যা ও ধর্ষণের শিকার হয়ে অনেক শিশু অকালে ঝড়ে যাচ্ছে। এ ধরণের শিশুমৃত্যু শিশু সুরক্ষার পথে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেক করে তিনি বলেন, আইনের প্রয়োগ সাথে সাথে হলে শিশু হত্যার মতো ঘটনাগুলো কমবে। পাশাপাশি শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা, শিশু আইন বিষয়ে জনগণকে জানানো। রাজন-রাকিবসহ সাম্প্রতিক শিশু হত্যা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হত্যাকারীরা মনে করে, এভাবে হত্যা করলে কিছু হয় না। এই ধারণাগুলো ভাঙতে হবে।

এমরানুল হক চৌধুরী শিশুদের জন্য পৃথক কমিশন গঠনের সুপারিশ করে বলেন, দেশের ৪৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর (শিশু) দেখাশুনার জন্য মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি মাত্র ডেস্ক আছে। মাঠ পর্যায়ে কোন কর্মকর্তা নেই।

দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৪৫ শতাংশ শিশু। এই বিশাল সংখ্যক শিশুর দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপর। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী উন্নয়নে কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য মহিলা অধিদপ্তর থাকলেও শিশুদের জন্য সেরকম কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে শিশুরা যথাযথ মনোযোগ ও গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাই শিশুদের জন্য পৃথক অধিদপ্তর এখন সময়ের দাবি।

আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায়: ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

প্রযোজনা: রেডিও টুডে প্রাইভেট লিমিটেড

XS
SM
MD
LG