অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৬৯ বছর সেখানে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ৭০ বছর । বিগত তিন দশকে জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে এটা সম্ভব হয়েছে । মা,নবজাতক,শিশুমৃত্যুহার যেমন একদিকে কমেছে তেমনি অপুষ্টির মাত্রাও দিন দিন কমে যাচ্ছে ।

আজ আমরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি এবং ঘাটতিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব । এই বিষয়ে আমাদের সাথে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক অনলাইন পত্রিকা হেলথনিউজ বিডি’র সম্পাদক ডা.রাসেল ।
সঠিক পরিকল্পনা এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এশিয়ার অনেক দেশকে পেছনে ফেলে সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বলে মনে করেন ডা.রাসেল । সরকারের বিশেষ নজরে সম্ভব হয়েছে এই অর্জন । একসময় বাংলাদেশে ডায়রিয়া হলেও সেটা মহামারী আকার ধারণ করত এবং মানুষও মারা যেত। সেই অবস্থা কাটিয়ে আরো জটিল সব রোগের চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে রয়েছে । কেটে গেছে কুসংস্কারও ।

১৯৭৯ সালে চালু হওয়া সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী-ইপিআই এর সাফল্য ৮২ শতাংশ যা এশিয়ার ১২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্থান অর্জনে ভূমিকা রেখেছে । প্রতি ৬০০০ জনের জন্য একটি ক্লিনিক হিসেবে ১৩,২৫০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত চালু হয়েছে ১২,২৪৮ টি ।
হেলথ নিউজবিডি’র সম্পাদক ডা.রাসেল আমাদের বললেন,স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পোলিও মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ । প্রাণঘাতি যক্ষাও নির্মুলের পথে । ভিটামিন এ’র অভাবে রাতকানা রোগ এখন নেই বললেই চলে । তাছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য সেবা একবারে দোরগোড়ায় পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার । সরকারী ডাক্তারদের বাধ্যতামূলক গ্রামে সেবা দেয়ার বিধান চালু করা হয়েছে । এইসব পদেক্ষেপের স্বীকৃতি শুধু দেশে নয় বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যে প্রদান করেছে ।
সাফল্যের পাশাপাশি দূর্বল ব্যবস্থাপনা,সম্পদের ঘাটতি,দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত উপকরণের অভাবে স্বাস্থ্যখাতে মানসম্পন্ন সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করা যায় । বাল্য বিয়ে এবং শিশু অপুষ্টি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয় নি । জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী উৎসাহের দরুন বেসরকারি হাস্পাতাল গুলোতে চিকিৎসা সেবার মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনা যায় নি এখনো । সাথে দক্ষ নার্স এবং পর্যাপ্ত জনবল তৈরীতে সঠিক পরিকল্পনার অভাব দৃশ্যমান ।
অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট নতুন ঝুঁকি মোকাবেলায় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত উন্নতি প্রয়োজন । বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শতকরা ১.৩৭, যা আরো কমানোর জন্য নানামুখী কর্মসূচি ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার ।
একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে তথা সুস্থ্য সমাজ গঠনে উন্নত এবং মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা অপরিহার্য । আমাদের নিজেদেরও উচিত সচেতন হওয়া নিজের এবং পরিবারের সুস্বাস্থ্য গঠনে ।

শরীফ উল হক,
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার ।
সহযোগিতায় – ইউএসএআইডি এবং ভয়েস অব আমেরিকা ।
প্রযোজনায়- রেডিও টুডে প্রাইভেট লিমিটেড ।

XS
SM
MD
LG