অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শরীফ উল হক
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায়- ইউএসএআইডি এবং ভয়েস অব আমেরিকা


মাহে রমজান ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক অনন্য উপহার । সংযম আর সাধনার এক অপূর্ব সমন্বয় । পবিত্র রমজানে আমাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের বেশকিছু পরিবর্তন ঘটে । দৃশ্যমান পরিবর্তন হয় খাবারের ক্ষেত্রে । অনেকেই আমরা নিয়মিত খাদ্যাভাস এবং বিভিন্ন শারীরিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কারনে প্রতিদিনের কর্মপদ্ধতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জটিলতার মুখোমুখি হই । এই রমজানের খাদ্যাভাস এবং স্বাস্থ্য সতর্কতা’র বিস্তারিত আজ আমরা জানার চেষ্টা করব ।


কথা বলেছিলাম ডা. দিলরুবা খানম এর সাথে । তিনি বারডেম হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন । জানার চেষ্টা করেছি সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে শরীরের জন্য কি কি খাবার উপকারী কিংবা সেহরীতে কি খেলে সারাটা দিন আপনি নির্ভাবনায় কাটিয়ে দিতে পারবেন ।


প্রতিদিন আমরা স্বাভাবিক যে খাদ্য গ্রহন করি, সেহরীতে সেইসব খাদ্য গ্রহনের উপর জোর দিয়েছেন ডা.দিলরুবা । যেহেতু সারাদিন আর খাওয়া হয় না তাই শর্করা জাতীয় খাবার বেশী খাওয়া উত্তম । ভাতের সাথে রুটি,আলু দিয়ে তৈরী খাবারে প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে । খাবারের পর কিছু ফলমূল খাওয়া যেতে পারে । হতে পারে দুধ কিংবা ফলের রস । তেমনি সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে হঠাৎ করে ভাজা-পোড়া খাবার পাকস্থলীতে হজম করতে কষ্ট হয় । খেজুর প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটি খাবার । তাই ইফতারে খেজুর খাওয়া খুব ভাল । প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে,সারাদিন শরীরে পানিশূন্যতা দূর করার জন্য ।

রমজান মাসে খাদ্যাভাসের সাথে দৈনন্দিন জীবন-যাপনেও হঠাৎ বেশ পরিবর্তনের হয় । সেসব মানিয়ে নিতে হয় এই মাসে । সেসব কি কি এবং সেগুলো কাটিয়ে কিভাবে সঠিকভাবে রোজা রাখা যাবে তা বললেন ডা.দিলরুবা । যেহেতু কোন কিছু দিনের বেলায় খাবার বিষয় থাকেনা তাই পানিও খাওয়া হয় না । তাই ইফতারের পর কিংবা দিনের যেকোন সময় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে । ঘাম এবং প্রস্রাব এর সাথে যে পরিমাণ পানি শরীর থেকে বের হয়ে যায়,তা ইফতারের পর পূরণ করতে বেশী পরিমাণে পানি এবং ফলের জুস খাওয়া যেতে পারে ।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষ্যমতে, রোগের জটিলতা অনুসারে নির্ধারিত হয় রোগী রোজা পালন করতে পারবেন, কি পারবেন না । যদি কোন গর্ভবতী মা এবং তাদের পরিবার পরিজন সাথে সাথে ডায়বেটিক রোগীরা বিশেষভাবে চিন্তিত থাকেন রোজা পালন করতে পারবেন কিনা এবং কি নিয়ম অনুসরন করবেন তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ নির্দেশনা ।

রোজা রাখার ফলে আমাদের শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকারক টক্সিন বা বিষ দেহ থেকে ফ্যাট এর সাথে বের হয়ে যায় এবং সাথে সাথে পরিপাক তন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় । সবচেয়ে উপকার হয় গ্যাস্ট্রিক-আলসার রোগীদের । একমাস রোজা রাখার ফলে তাদের এই রোগটি অনেকটা সেরে যায় । সাথে সাথে নিয়ন্ত্রনে থাকে উচ্চ রক্তচাপ যাদের রয়েছে । গর্ভবতী মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে ঘন ঘন বমি করার কারনে রোজা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে । যদি মা সুস্থ্য অনুভব করেন তাহলে রোজা রাখতে পারেন । আর যারা ডায়বেটিক রোগী যাদের ইনসুলিন গ্রহন করেন তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজার বিষয়টি সিদ্ধান্ত নিতে হবে ।

সঠিকভাবে খাদ্যাভাস এবং নিয়মানুসারে চললে রোজা পালনে কোন অসুবিধা হয় না । তবে বিশেষ ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না ।

XS
SM
MD
LG