অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আঙ্গুর নাহার মন্টি, ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার

সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। লিভারের বিভিন্ন ধরনের রোগ ও রোগ থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে সভা-সেমিনারসহ নানা আয়োজনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘হেপাটাইটিস প্রতিরোধ: নির্ভর করছে আপনার উপর’।

হেপাটাইটিস এমন একটি ভাইরাস যা বিশ্বব্যাপী মারাত্মক সংক্রামক রোগের জীবাণু হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪ থেকে ৭ শতাংশ হেপাটাইটিস ‘বি’, ১ থেকে ৩ শতাংশ হেপাটাইটিস ‘সি’ এবং ৩ দশমিক ৫ শতাংশ গর্ভবতী মায়েরা হেপাটাইটিস ‘বি’
ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং লিভার, পরিপাকতন্ত্র ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ মামুন-আল-মাহতাব স্বপ্নীল বলেন, হেপাটাইটিসের দিক থেকে বাংলাদেশ মধ্যম ঝুঁকির দেশ। সারা বিশ্বে প্রতি ১২ জনে ১ জন লোক হেপাটাইটিস বি অথবা সি ভাইরাসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে আমরা গবেষণায় পেয়েছি, দুই কোটি লোক জীবনে কোন না কোন হেপাটাইটিসে ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মানে এই নয় যে, তারা সবাই এই ভাইরাসের কারণে লিভার সিরোসিস অথবা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে। তবে এদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রায় ২০ শতাংশ জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে লিভারের খারাপ রোগে পড়তে পারেন। এ থেকেই হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ এর ভয়াবহতা কতখানি তা বোঝা যায়।

তিনি হেপাটাইটিস প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি। এ সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যয় অনেক। আর অন্য দেশের তুলনায় অনেক আগেই বাংলাদেশের মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। তাই শুধু চিকিৎসা করে হেপাটাইটিস ঠেকানো যাবে না। এক্ষেত্রে সচেতনতা একটি বড় ব্যাপার।

হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ প্রতিরোধে বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব প্রফেসর ডা: মোহাম্মদ আলী বলেন, নিরাপদ রক্ত গ্রহণ, নিরাপদ ইনজেকশন, একই সূচেঁর বারবার ব্যবহার পরিহার, সার্জারি ও দাতেঁর চিকিৎসায় নিরাপদ যন্ত্রপাতি ব্যবহার, সূচেঁর মাধ্যমে মাদক গ্রহণ না করা এবং গ্রামে গঞ্জের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলোতে ডিসপোজেবল নিডল ব্যবহার করা নিশ্চিত করতে হবে।

হেপাটাইটিস বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাস দুটি খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ। এই ভাইরাস দুটি সংক্রামক নয়। বিশুদ্ধ পানি, টাটকা ও ভাল করে রান্না করা খাবার খেলে সহজে ভাইরাস দুটি প্রতিরোধ সম্ভব। তবে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস সংক্রামক যা রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস ‘বি’ প্রতিরোধে টিকা থাকলেও হেপাটাইটিস ‘সি’ প্রতিরোধে কোন টিকা নেই। তাই সচেতনতাই প্রতিরোধের প্রধান উপায়। হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

XS
SM
MD
LG