অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শরীফ উল হক
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় – ইউএসএআইডি এবং ভয়েস অব আমেরিকা

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় তিন বেলা পেট ভরে খাবার প্রবণতা । যেকোন খাবার দিয়েই পেট ভরানো যায়,কিন্তু তাতে থাকতে হবে পুষ্টিমান । ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু কুসংস্কার,অবহেলা এবং অসচেতনতার কারনেই এখনো পর্যন্ত পুষ্টিমানের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে । মেধাবী জাতি গঠনে পুষ্টির ভূমিকা অপরিহার্য । কথা বলছিলাম, আখতারুন নাহার আলোর সাথে । যিনি চিফ নিউট্রিশন অফিসার হিসেবে ডায়বেটিক এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ,বারডেম জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আছেন । তিনি বললেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবন সাথে সাথে পুরো সমাজের উপর পুষ্টির প্রভাব নিয়ে । কোন খাবারে কতটা পুষ্টি এবং বয়স ভেদে শরীরের চাহিদা কতটুকু তা জেনে খাদ্যাভাস গড়ে তুললে প্রতিটি দিন হবে নিশ্চিন্ত ।
সকাল-দুপুর-রাত । কাজের শেষ নেই । নজর দেয়াটা জরুরী ঠিকমত খাবার পাচ্ছে কিনা দেহঘড়ি । শহুরে জীবনে সময় স্বল্পতার কারনে ফাস্টফুড নির্ভরশীলতা বেড়েছে বহুগুণ । কিন্তু,এই খাবারগুলো ফাস্টফুড নাকি জাংকফুড? এইসব খাবারে বেশী পরিমানে লবণ,হাই ক্যালরি,হাই সোডিয়াম,হাই ফ্যাট আছে । যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক বেশী ক্ষতিকর ।
যারা ডায়বেটিকস এবং উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের মেনে চলতে হয় খাবারের নির্ভূল সূচী । উচ্চ শর্করা যুক্ত খাবার সাথে চিনি,গুড়,মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলো এড়িয়ে চলতে হবে ।

একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সময় হচ্ছে তার গর্ভকালীন সময় । যার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে সুস্থ্য শিশু এবং সুস্থ্য মা । সমাজে এখন প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় খর্বকায় শিশু জন্ম নিচ্ছে । মা সাথে পরিবারের একটু সচেতনতাই পারে এই সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে । গর্ভকালীন সময়ে মায়ের অপুষ্টির জন্য নবজাতকের পরবর্তী এই সমস্যাগুলো হয় । যার মধ্যে রয়েছে খর্বাকৃতি,অপুষ্টি,রাতকানা সহ নানা রোগ ।

জন্মের আগে যেমন যত্নশীল থাকতে হয় তেমনি নবজাতকের জন্মের পর সময়টাও অনেক গুরত্বপূর্ন । জন্মের পর কয়েকটা মাস বিশেষ নজর রাখতে হয় সদ্য ভূমিষ্ট শিশুটির খাবারের দিকে । জন্মের পর শাল দুধ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন । কিন্তু অনেক মা শাল দুধ ফেলে দেন । শাল দুধে রয়েছে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিক । যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক । সাথে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত দুধের পাশাপাশি নানারকম পুষ্টিকর খাবার যেমন ভাত,মাছ,ডাল,সবজি,মাংস ইত্যাদি খাবার খেতে দিতে হবে ।

একটা সময় মানুষ পৌছে যায় জীবনের শেষপ্রান্তে । ছোট্ট শিশুটির মতই আগলে রাখতে হয় পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ,মানুষটিকে । যেহেতু কিছু শক্ত খাবার তারা খেতে পারেন না,তাই তাদের খাবার গুলো নরম করে রান্না করে দিতে হবে এবং সাথে দুধ,কলা,ডিমের মত পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খেতে দিতে হবে ।
আমাদের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে খাবার । সেই খাবার হতে হবে সঠিক এবং সুষম পুষ্টিযুক্ত । তাতেই হতে পারে সুন্দর,রোগমুক্ত,ভাবনাহীন জীবন ।

XS
SM
MD
LG