অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শিশুদের পরিবেশগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং প্রতিকার ।


বর্তমান বিশ্বে পরিবেশগত সমস্যা সবচেয়ে মারাত্বক সমস্যা । একবিংশ শতাব্দীতে শিল্পায়নের সাথে বেড়ে চলেছে পরিবেশ দূষণের মাত্রা । জীবন যাত্রার মান যেমন বেড়েছে, তেমনি স্বাস্থের উপর মারাত্মক প্রভাবও পড়ছে । সবেচেয়ে ভয়াবহ কারণগুলো হচ্ছে গার্মেন্টস,ট্যানারী,সিমেন্ট,সার ও কাগজ শিল্পের পরিবেশের সাথে মিশে যাওয়া ক্ষতিকর বর্জ্য ।
ডা.ইফজালুর রহমান কর্মরত আছে সিলেট মেডিকেল কলেজে সাথে সাথে কাজ করছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুদের নিয়ে । শিশু স্বাস্থ্যে পরিবেশের প্রভাব কি,তা নিয়ে আমাদের আজকের প্রতিবেদন । মায়ের গর্ভ থেকে একটি নবজাতক পৃথিবীতে আসবার পরেই নতুন পরিবেশ এবং আবহাওয়ার সাথে পরিচিত হয় । যার উপর নির্ভর করে তার সুস্থ্যতা । বাহ্যিক প্রকৃতি এবং আবহাওয়া যদি দূষিত হয় তাহলে শুরু থেকেই শিশুর রোগ প্রতিরধ ক্ষমতা কমে যাবার পাশাপাশি রোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিও থেকে যায় বলে জানালেন ডা. ইফজালুর রহমান ।

দূভার্গ্য জনক ভাবে বাংলাদেশে ৬৪ শতাংশ শিশু স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ থেকে বঞ্চিৎত । ৫৭ শতাংশ দৈহিক বৃদ্ধির জন্য পুষ্টি পায় না । ১৬ ভাগ স্বাস্থ্যসেবা পায় না এবং ৩ ভাগ শিশু সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত আর এসবের সাথে যখন যোগ হয় পরিবেশ দূষণ তখন হতদরিদ্র সুবিধা-বঞ্চিত পরিবারের শিশুরা মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে ।গ্রাম থেকে শহরে চলে আসার প্রবণতা এখনো দৃশ্যমাণ । হঠাৎ শহরে এসে বেশীর ভাগের মানুষেরই জায়গা হয় বস্তিতে। এই বস্তি গুলোতে ঘণ বসতির কারণে হুমকির মধ্যে থাকে শিশু স্বাস্থ্য । পৃথিবীতে বায়ুদূষণের দিক দিয়ে অন্যতম শহর এই ঢাকা । নবজাতকের জন্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের শিশুরা নানা ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে এই স্বল্প অক্সিজেন সমৃদ্ধ এই বাতাস গ্রহনে ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র তথ্য মতে, সারাবিশ্বের ১৫ বছরের নিচে প্রায় ১ কোটি শিশু পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারনে মারা যায় । গর্ভবতী মায়ের ভেজাল খাবার এবং দূষিত পরিবেশে বসবাসের ফলে একটি মানব শিশু মাতৃগর্ভেই আক্রান্ত হতে পারে রোগে ।

অনাগত শিশুর ভবিষ্যত পৃথিবী বিনির্মানে বৃক্ষরোপনসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রয়োজন । তাই কবি সুকান্তের সাথে গলা মিলিয়ে নব শিশুর আগমন বার্তায় বলতে পারি, দূনীতি, দারিদ্রের পাশাপাশি জঞ্জালমুক্ত পৃথিবী গড়তে , সুস্থ-নির্মল পরিবেশ গঠন অপরিহার্য ।

শরীফ উল হক ।

XS
SM
MD
LG