অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিশরে সংসদ বিলুপ্ত , সংবিধান স্থগিত


তাহরির স্কয়ারের সামনে বিক্ষোভকারী ও সেনাবাহিনীর সামনাসামনি অবস্থান

তাহরির স্কয়ারের সামনে বিক্ষোভকারী ও সেনাবাহিনীর সামনাসামনি অবস্থান

মিশরের সামরিক বাহিনী সংসদ বিলুপ্ত করেছে এবং সংবিধান স্থগিত করেছে। এ দুটি ছিল গণতন্ত্র পন্থি বিক্ষোভকারীদের আঠারো দিন ব্যাপী উত্থানের প্রধান দাবি। ঐ উত্থানের কারণেই প্রেসিডেন্ট হোসনে মুবারক ক্ষমতাচ্যূত হন।

সংবিধান সংশোধন এবং জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার বিষয়ক ব্যাপারে একজন সাবেক বিক্ষোভকারী খালিদ শাহওয়ান বলেন যে নির্বাচনকে যথার্থ করতে হলে সংবিধানে যে পরিবর্তন প্রয়োজন সেই পরিবর্তন আনতে বেশ খানিকা সময় লাগবে। তারই বন্ধু গিহান মোহাম্মদ বলেন যে মিশরের শাসক গোষ্ঠির সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসা জরুরী। তিনি আশআ প্রকাশ করেন যে অনেকগুলো বিষয়ে পরিবর্তন আসবে কারণ দেশে ব্যাপক দূর্নীতি আছে।

এ দিকে শুক্রবার মি মুবারকের পদত্যাগের পর , যে সামরিক নের্তৃত্ব দেশের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে , তারা রোববার জানিয়েছে যে সেপ্টেম্বর মাসে নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত , তারা ক্ষমতায় থাকবে। এই বিবৃতি জারির ঠিক অল্প আগেই মিশরের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক বলেন যে তার সামরিক বাহিনী সমর্থিত মন্ত্রীসভা , মিশরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় দেশটিকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে অগ্রধিকার দিচ্ছে। তিনি আরো এলন যে মন্ত্রীপরিষদের অনেক পদই এখনও শুন্য রয়েছে তবে যে কোন পদে নিয়োগদানের সময়ে এটা নিশ্চিত কতে হবে যে তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

মি মুবারকের পদত্যাগের পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সংবাদ সম্মেলন। মিশরে আন্দোলন শুরুর চার দিন পর ২৯শে জানুয়ারি মি মুবারক মি শফিককে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেন।

আজ মিশরের নতুন সামরিক শাসকরা কায়রোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন , তারা সেখানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্যে রাজধানী তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের তাঁবু সরিয়ে ফেলতে সৈনিকদের পাঠিয়েছেন।

এ দিকে মিশরের পরিবর্তন সম্পর্কে কিছু ক্ষণ আগে ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের সঙ্গে টেলিফোনে কায়রো থেকে কথা বলছিলেন Middle East News Agency’র প্রধান আব্দাল্লাহ হাসান। হাসান বলছেন যে মিশরে সকলেই এখন স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চাইছেন যাতে করে , যাতে করে আবারও মিশরের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলা যায় ।

দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কে আব্দাল্লাহ হাসান বলেন যে সকলেই চাইছে যে এই সামরিক পরিষদ দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরালো করুক। আগামি সপ্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে এবং দেশে এবং মিশরে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা শুরু হবে। আব্দাল্লাহ হাসান আরও বলেন যে সামরিক বাহিনী এবং মিশরের জনগণের মধ্যে কোন সংঘাত নেই এবং সামরিক পরিষদের সরকারী বিবৃতিতেই বলা হয়েছে যে মিশরকে নতুন জীবনে ফিরিয়ে আনতে জনগণের আশা আকাঙ্খার বাস্তবায়নের দিকে সামরিক বাহিনী নজর রাখবে।

XS
SM
MD
LG