অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

এল নিনো নামে জলবায়ুর কালচক্রে পূর্ব ও দক্ষিন আফ্রিকা বিগত কয়েক বছর চরম ক্ষরা ও বন্যা প্রত্যক্ষ করে আসছে। স্বস্তির খবর হচ্ছে এল নিনো কালচক্র এখন শেষের পথে। তবে জাতিসংঘ শিশু তহবিল বলছে এল নিনোর বিরূপ প্রভাব; বিশেষ করে শিশুদের ওপর অব্যহত থাকবে।

'ইটস নট ওভার' নামে ইউনিসেফ একটি নতুন রিপোর্ট করেছে। তাতে বলা হয়েছে সম্প্রতিক সময়কার প্রাকৃতিক কালচক্র এল নিনো ছিল তাদের রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর মধ্যে একটি। জোহানেসবার্গে ইউনিসেফের আফ্রিকা সার্ভিস ইউনিটের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান প্যাটসি নাহকেল কথা বললেন এল নিনো নিয়ে, “মূলত; গত বছরই এল নিনো শেষ হয়েছে; তবে এর প্রভাব রয়েছে এখনো। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিন আফ্রিকা এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে”।

বন্যা ও ক্ষরা আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করেছে বলে খাদ্যপন্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাতে ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে পুষ্টির অভাব। নাহকেল বলেন ৫ কোটিরও বেশি মানুষ এলনিনোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন যার ২ কোটি ৫০ লক্ষ শিশু। তিনি বলেন ১০ লক্ষেরও বেশি শিশুর জরুরী পুষ্টি সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন।

“এর অর্থ হচ্ছে এইসব কম বয়সী বাচ্চাদের ওপর এর প্রভাব রইবে সারা জীবন ভর। শুধুমাত্র খাদ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এটি সাধারন অপুষ্টির মতো সমস্যা নয়; তাদের জন্যে বাড়তি চিকিৎসা ও পরিস্কার পানি, ম্যালেরিয়া এ এইচাইভি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন”।

ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা বলছেন এইচাইভি-এইডস-এল নিনো ও অপুষ্টির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে, “এই অঞ্চলটি বিশ্বের এমন একটি স্থানে যোখানে এইডসের সংক্রমন বেশী। এবং আমরা জানি ক্ষরাসহ অন্যান্য জলবায়ু সংক্রান্ত দুর্যোগের কারনে এইচাইভি হারের ওপর প্রভাব পড়ে। ক্ষরার পর এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে ১১ শতাংশ বেশী হারে। খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। আর যারা এইচাইভি আ্রক্রান্ত তারা খাদ্যা না খেয়ে খালি পেটে এইচাইভির ওষুধ খেতে পারে না। এসবের ফলে অবস্থা মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে”।

এলনিনোর দির্ঘস্থায়ী প্রভাব মোকাবেলার সময় লা-নিনা নামে আরো একটি দুর্যোগ আসার আশংকার কথা বললেন প্যাটসি নাহকেল, “লা নিনা মূলত এল নিনোরই প্রতিবিম্ব। এল নিনোয় ক্ষরা হয় এবং পানির অভাব হয়। লা নিনায় হয় ঠিক এর উল্টো অবস্থা। এর মানে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রচুর পরিমানে বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা থাকবে। এবং দীর্ঘ ক্ষরার পর তা ভালো লক্ষন মনে হলেও সমস্যা হচ্ছে লম্বা ক্ষরার পর হঠাৎ পৃথিবী বেশী পানির চাপ সহ্য করতে পারে না। ফলে বন্যা ও মাটি ভাঙ্গন হয়”।

প্রতিবেদনে বলা হয় ২০১৫-২০১৬ এর দানবীয় এল নিনো আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে যে দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরী প্রস্তুতি আমাদের রাখতে হবে সর্বদাই। আর এখনই যদি আমরা যথাযথ ব্যাবস্থা না নিতে পরি; তবে মানবিক সংকটে পড়তে হবে আমাদেরকে।

XS
SM
MD
LG