অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইইউ'র ভবিষ্যত নিয়ে ভেন্টোটিনে তিন সরকার প্রধানের বৈঠক


ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যত নিয়ে ইতালির ভেন্টোটিন দ্বীপে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সের সরকার প্রধানগণ। এই দ্বীপেই এক সময় একত্রিত ইউরোপের স্বপ্ন বোনা হয়েছিল।

ব্রেক্সিটের পর নেদারল্যান্ডেও একই বিতর্ক চলছে। সেখানেও গণভোটের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। এই পটভূমিতে অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ফ্র্যাসোয়া ওঁলান্দ ও মাত্তিও রেনজি সোমবার এই জরুরি বৈঠকে বসেন।

নেপলস শহরের অদূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি সুদূর অতীতে ব্যবহৃত হতো বন্দিশালা আর নির্বাসনের স্থান হিসেবে। রোমান সময়ে এটা পরিচিতি ছিল প্যান্ডাটারিয়া নামে। সম্রাট অগাস্টাসের মেয়ে জুলিয়া দ্য এল্ডার ব্যাভিচারে অভিযুক্ত হয়ে নির্বাসিত হয়েছিলেন এই দ্বীপে। এরপর সম্রাট নিরো তার স্ত্রী অক্টাভিয়াকে এই দ্বীপে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। ১৭৯৭ সনে এখানে নির্মিত হয় এক কারাগার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্যাসিবাদী শাসক গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বাসনে পাঠাতো এই কারাগারে। তখন থেকে এই দ্বীপটি কারাগার দ্বীপ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে।

একতাবদ্ধ ইউরোপের স্বপ্ন বোনার এই দ্বীপটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী আলোচনার জন্য বেছে নিয়েছেন মাত্তিও রেনজি। আর এর অন্যতম কারণ হচ্ছে কারাগারে বন্দিদের মধ্যে একজন ছিলেন সাংবাদিক ও কমিউনিস্ট অ্যাক্টিভিস্ট আলটিয়েরো স্পাইনেলি। ১৯৪১ সালে তাকে কারাগার দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে বন্দি থাকা অবস্থায় সতীর্থ আরেক বন্দিকে নিয়ে গোপনে লিপিবদ্ধ করেন ভেন্টোনিন ম্যানিফেস্টো। আর এটিই গড়ে দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিত্তি।

তিন নেতার বৈঠক শুরু হওয়ার আগে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২৭ জাতির এ জোটকে কিভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। এছাড়া, সন্ত্রাসবাদ ও শরণার্থী সমস্যা নিয়ে তারা মতবিনিময় করবেন ও কৌশল ঠিক করবেন।
লন্ডন থেকে মতিউর রহমান চৌধুরী।

XS
SM
MD
LG