অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ আদালত মঙ্গলবার এক মাইলফক রায়ে বলেছেন, কতিপয় নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ইইউ-র বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে ইসলামি হিজাবসহ অন্যান্য দৃশ্যমান ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও দর্শনগত প্রতীক পরিধান থেকে বিরত থাকতে বাধা-নিষেধ আরোপ করতে পারেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্য রাইটস গ্রুপ বলেছে, ‘এই রায় হতাশাব্যঞ্জক। কারণ তা বৈষম্যকে উৎসাহিত করতে পারে।’
এদিকে, ইইউ পার্লামেন্টের বৃহত্তম মধ্যডানপন্থী ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির প্রধান ম্যানফ্রেড ওয়েবার এক টুইট বার্তায় এই রায়কে ইউরোপীয় মূল্যবোধের বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
খবরে বলা হয়েছে, ইউরোপ জুড়ে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হওয়া এই বিষয়টি সম্পর্কে লুক্সেমবার্গ ভিত্তিক দি কোর্ট অব জাস্টিস (ইসিজে)-এর দেয়া এটাই প্রথম রায়।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি বেলজিয়াম ফার্ম যারা গ্রাহক সেবায় নিয়োজিত তাদের কর্মচারিদের উপর জনসম্মুখে নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখার স্বার্থে কোন ধরণের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃশ্যমান কোন প্রতীক পরিধানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, তাদেরকে বৈষম্যের দায়ে নাও অভিযুক্ত করা যেতে পারে। অবশ্য দেখতে হবে যে, এধরণের প্রত্যক্ষ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে কোম্পানিগুলো অন্যান্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করেছিল কিনা।
এ সংক্রান্ত মামলার রায় এমন একটি প্রেক্ষাপটে এসেছে যখন একটি ডাচ সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। আর সেখানে মুসলিম অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অন্যদিকে সামনের দিনগুলোতে ইউরোপজুড়ে অব্যাহতভাবে উত্তপ্ত আলোচনায় থাকা অভিবাসন ও উদ্বাস্তু ইস্যুর প্রতি কী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা হবে, সে বিষয়ে ইউরোপীয় শীর্ষ আদালতের দেওয়া এই রায়কে পর্যবেক্ষকদের অনেকে ‘বেড়ালের গলায় ঘন্টা’ বাঁধার সঙ্গেও তুলনা করছেন। লন্ডনে অবস্থানরত আমাদের ঢাকা সংবাদদাতা মতিউর রহমান চৌধুরীর রিপোর্ট।

XS
SM
MD
LG