অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলা গানের বিবর্তন : নিধু বাবুর টপ্পা ও সুমন প্রসঙ্গ


বাংলা গানের বিবর্তন : নিধু বাবুর টপ্পা ও সুমন প্রসঙ্গ

বাংলা গানের বিবর্তন : নিধু বাবুর টপ্পা ও সুমন প্রসঙ্গ

বাংলা গানের ইতিহাস , বাংলা ভাষার ইতিহাসের মতোই হাজার বছরের পুরোনো । বস্তুত চর্যাপদ যাকে বলা হয় সে তো উত্তর ভারতীয় সঙ্গীতেরই আদি রূপ। এই চর্যাপদের সুরারোপিত পরিবেশনা , বাংলা গানে নিয়ে আসলো এক ধরণের ধ্রুপদ শৃঙ্খলা। ১২ শতকে লেখা জয়দেবের গীতগোবিন্দ বোধ করি ধ্রুপদাঙ্গের গানের প্রথম ও প্রায়োগিক সূচনা।

আবার বৌদ্ধদের চর্যাগীতির অনুগামি হয়েছে বাংলা গান। ১৬৮৭ সালে ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী যখন মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত , তখন রাজশাহীর নরোত্তম ঠাকুর পদাবলী কীর্তনকে দিলেন এক নতুন রূপ। আর এ ক্ষেত্রে ভারতচন্দ্রের নাম উল্লেখ করা যায় যিনি সঙ্গীতকে নিয়ে আসলেন মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে।

অথচ বাংলা গানের এই আধুনিক যুগ সুবিস্তৃত। এর প্রধান পুরুষ রামনিধি গুপ্ত বা নিধু বাবু , যার টপ্পা সেই ১৯০৭ সালে আধুনিক গান বলে বিবেচিত হয়েছে এবং তারই পাশাপাশি যদি আমরা ১৯৯২ সালে বাণীবদ্ধ কবীর সুমনের গান শুনি , তা হলেই বোঝা যাবে , গানের সুরে ও কথায় বিস্তর ফারাক । লক্ষ্য করার বিষয় নিধু বাবুর প্রেম যেন অত্যন্ত ভীরু , সঙ্কুচিত খানিকটা , অনুগত সে প্রেয়সীর প্রতি। আর সুমনের গানে প্রেম যেন রাজনীতির সুরে লয়ে বাঁধা, ঝাঁঝালো শ্লোগানে পরিপূর্ণ । রোমান্টিকতার এক ভিন্ন প্রকাশ । এ সব নিয়েই বাংলা গানের এই সঙ্কলন ।

XS
SM
MD
LG