অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে তা ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে


আমরা দীর্ঘদিন ধরেই শুনে আসছি, নিয়মিত খাওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়াম করা স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো। এর মাধ্যমে রোগ-বালাই থেকে দূরে থাকা যায়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস প্রতিরোধের পাশাপাশি এখন গবেষকরা বলছেন, ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণেও খাওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীর চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম।
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যে মহিলারা অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির গাইডলাইন অনুসরণ করে, পুষ্টি এবং শারীরিক অনুশীলন ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, তাদের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে গেছে।
এই গাইডলাইনে বলা হয়েছে, আপনাকে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে হবে, এবং শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। সেই সাথে মদ্যপান থেকে বিরত থাকা এবং শাকসবজি খাওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। যাদের এরই মধ্যে রজোনিবৃত্তি হয়েছে, এরকম প্রায় ৬৫ হাজার মহিলার ১২ বছরের শারীরিক তথ্যের ওপর কাজ করা হয়েছে। যারা অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির গাইডলাইন অনুসরণ করেননি, তাদের তুলনায় যারা সেই গাইডলাইন সঠিকভাবে অনুসরণ করেছেন তাদের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। স্তন ক্যান্সারের আশঙ্কা কমেছে ২২ শতাংশ এবং কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের আশঙ্কা কমেছে ৫২ শতাংশ।
ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কোলেস্টরলের সঙ্গে ক্যান্সারের সম্পর্ক দেখিয়েছেন। তাদের এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, নেইচার রিভিউ এন্ডোক্রিনোলজি জার্নালে।
শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা কোলেস্টোরল স্তন, মলাশয়, মলনালী, খাদ্যনালী, বৃক্ক, অন্ত্রাশয়ের ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেক বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, পিত্তথলি, যকৃত, নন-হজকিন লিম্ফোমা, মেলানোমা, গর্ভাশয়, ডিম্বাশয় এবং মূত্রথলির ক্যান্সারের পেছনেও অতিরিক্ত ওজন ভূমিকা রাখে। শৈশব এবং কৈশরেও যদি ওজন বেশি থাকে তাহলে, পরবর্তীতে ক্যান্সারের খুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এজন্যে শরীরের বডি ম্যাস ইন্ডেক্স ১৮.৫ থেকে ২৪.৯-এর মধ্যে থাকা খুব জরুরি।
আসুন, আমরা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলি এবং ক্যান্সারমুক্ত থাকি।
XS
SM
MD
LG