অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বুরকিনি নিষিদ্ধ, ফ্রান্সেই প্রতিক্রিয়া


ফ্রান্সের একটি বিখ্যাত শহরের নাম কান। ফিল্ম উৎসবের জন্য জগতজুড়ে এর ব্যাপক পরিচিতি। ৭০ বছর ধরে চলে আসা কান উৎসবে ভীড় করেন ফিল্মি দুনিয়ার তারকারা। পর্যটকদেরতো কথাই নেই। লাখ লাখ পর্যটক আসেন এর নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত দেখতে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়।

এই যখন অবস্থা এর কিছুটা ছন্দপতন ঘটলো স্থানীয় মেয়র ডেভিড লিসনার্ডের এক ফরমানে। এতে তিনি ধর্মীয় দিক থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের খুবই পছন্দনীয় সুইমিং ড্রেস বুরকিনি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। তার ভাষায়, এই পোশাক নিরাপত্তাজনিত হুমকি। এর সঙ্গে ইসলামপন্থী জঙ্গিবাদীদের সংযোগ থাকতে পারে। বুরকিনি হচ্ছে এমন একটি পোশাক যাতে মুখোমন্ডল ছাড়া শরীর ও মাথা ঢেকে থাকে।

মেয়র তার ফরমানে বলেছেন, যদি কেউ এটা অমান্য করে সৈকতে যায় তাহলে তাকে ৩৮ ইউরো জরিমানা গুনতে হবে। মেয়র ডেভিড লিসনার্ড শুক্রবার নিস-ম্যাটিন পত্রিকাকে বলেছেন, কানের সমুদ্র সৈকতে যেসব ভারতীয় শাড়ি পড়বেন তাদের বিরুদ্ধেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। কারণ শাড়ির কারণে জরুরি প্রয়োজনে তাদেরকে উদ্ধারের অভিযান ব্যাহত হয়। মেয়রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা হচ্ছে ফ্রান্সেই।

বিখ্যাত দৈনিক লি মন্ডে লিখেছে, সারা শরীর ঢাকার মতো সাঁতারের পোশাক পরা নিষেধ করেনি ফ্রান্সের কোন আইন। জনসম্মুখে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করা আছে আইনে।

ফ্রান্স টিভি ইনফো’র লিগ্যাল ব্লগ জাজ মেরি বলেছেন, কে কি পোশাক পড়বে তা নির্ধারণ করা হবে মৌলিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।

অন্যদিকে, বাম ঘরনার পত্রিকা লিবারেশন বলেছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই মেয়র এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফ্রান্স-২৪ বলেছে, মেয়রের এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ধর্মীয় উত্তেজনাকে উস্কে দেয়া হবে।

হিউম্যান রাইটস লীগ ফ্রান্স বলেছে, বুরকিনি নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে ফরাসি মুসলিমদেরকে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মুখোমুখি করা হবে। মার্সেই শহরেও বুরকিনি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ওদিকে, জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস ডি মেইজিয়েরের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তার দেশ বোরকা নিষিদ্ধ করবে না। তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ নেয়া হবে অসাংবিধানিক।
লন্ডন থেকে মতিউর রহমান চৌধুরী।

XS
SM
MD
LG