অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ফ্রান্সে পুলিশ অফিসার হত্যার পর দেশটি থমকে গেছে। ঢেকে গেছে সব নির্বাচনী আমেজ। একদিন বাদে দেশটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। ৫০ হাজার পুলিশ আর সাত হাজার সেনা সদস্য প্যারিসকে ঘিরে রেখেছে। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বিরত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ন’টায় গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে স্যামস এঁলিসে এভিনিউ। তখন এই এলাকাটি ছিল পর্যটকে ঠাঁসা। বন্দুকবাজ ছয় রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে। সঙ্গে সঙ্গে একজন পুলিশ অফিসার নিহত হন। আহত হন আরও দুইজন। পরে পুলিশের গুলিতে বন্দুকবাজ নিহত হয়।

পুলিশ হামলকারীর নাম প্রকাশ করেনি। মিডিয়ার খবর, হামলাকারী করিম চেরুফি একজন ফরাসি নাগরিক। আজ দিনের শুরুতে তার পরিবারের তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

স্মরণ করা যায় যে, ২০০৩ সালে পুলিশ নির্যাতনের অভিযোগে করিম চেরুফিকে সাজা দেয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ না থাকায় তখন তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

বন্দুক হামলার পরপরই আইএস দায় স্বীকার করে। তারা জানায়, হত্যাকারী বেলজিয়ামের আবু ইউসুফ বেলজিকি। কিন্তু ফ্রান্সের প্রসিকিউটররা তা উড়িয়ে দিয়েছেন। বলছেন, এর কোন সত্যতা নেই। হত্যাকারী একজন ফরাসি নাগরিক। সব তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। নিছক রাজনীতি ও প্রচারের জন্য আইএস এ দাবি করছে।

ওদিকে, প্যারিস হামলাকে জঙ্গি হামলা উল্লেখ করে, ফাররাইট প্রার্থী ম্যারিন ল্য পেন সব বিদেশীদেরকে ফ্রান্স থেকে তাড়িয়ে দেয়ার দাবি তুলেন। শুক্রবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বার্নাড কেজন্যুভ এই দাবি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, প্যারিস হামলার সঙ্গে কোন বিদেশী জড়িত নয়, অযথা রাজনীতি করছেন ল্য পেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বশেষ প্যারিস হামলা নির্বাচনে ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন এমন ভোটাররা যেকোন এক দিকে ঝুঁকতে পারেন এমন ধারণা করছেন অনেকে। ভোটাররা যদি আতঙ্কিত হয়ে কেন্দ্রে না যাবার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে ফাররাইট প্রার্থী ল্য পেন উপকৃত হবেন এমনটাই বলাবলি হচ্ছে।

ফরাসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৬ সালে ১৫ হাজার ব্যক্তির ওপর তারা নজরদারি করে আসছিলেন। ধারণা করা হয় তারা উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। ফ্রান্সে ২০১৫ সাল থেকে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। এ পর্যন্ত জঙ্গি হামলায় ২৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

XS
SM
MD
LG