অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে জি-২০ সম্মেলনে মূল বিষয় বিশ্ব অর্থনীতি


উন্নত ও উন্নয়নশীল, বিশ্বের ২০টি শীর্ষ অর্থনীতির দেশের নেতৃবৃন্দ অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার মিলিত হচ্ছেন রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে। সিরিয়ার রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধসহ বিশ্বের অন্যান্য বহু সমস্যা নিয়ে কি আলোচনা হয় তারজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন এই জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের দিকে। রিপোর্ট করেছেন জাটিকা হোক Zlatica Hoke । পরিবেশন করছেন সেলিম হোসেন:

জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের বেশ আগে থেকেই প্রেসিডেন্ট ওবামা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য সিরিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ায়, বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আহবান জানিয়ে আসছিলেন। তবে বুধবার সুইডেনে যাত্রা বিরতির সময় তিনি ষ্পষ্ট করে বলেন অর্থনীতিই হচ্ছে প্রধান বিষয়।

“তিনি বলেন, জি টোয়েন্টিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে আমি আমার মতামত জানালাম, যে কর্মসংস্থান এবং প্রবৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের এগুতে হবে। শুধুমাত্র তা আমাদের অর্থনীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ন নয় বরং চরম সমস্যায় থাকা বহু গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ন”।

অনেকেই এই দুটি বিষয় আলাদা করে দেখেন না। যেমন অষ্ট্রেলিয়ার সর্ববৃহৎ দাতব্য প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রধান টিম কোষ্টেলো:

“কোষ্টেলো বলেন, সিরিয়ার ঘটনা পৃবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলছে, যা জি-টোয়েন্টির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। যে সিরিয়ার ঘটনায় ১ লক্ষ মানুষের প্রানহানি, ১০ লক্ষ শিশুসহ ২০ লক্ষ মানুষের শরনার্থী জীবন, তার একটা সুরাহার ব্যপারে যা জি-টোয়েন্টির কাছে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। ফলে বিষয়টি আলোচনায় আসতেই হবে”।

রাশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক কোনষ্ট্যানটিন এগার্ট Konstantin Eggert বলেন, ভিন্ন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধী স্বার্থের এই কুড়ি জাতি বৈঠক থেকে বৈশ্বিক বিষয় সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত আশা করা অবাস্তব। এ প্রসঙ্গে তিনি রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেণ্ট বারাক ওবামার বৈরী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।

“এগার্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন, প্রেসিডেন্ট ওবামাকে পছন্দ করেন না, অথবা আমি আরো শক্তভাবে বলি খুবই অপছন্দ করেন। পুতিন তাকে মনে করেন একজন অনভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, জনসংযোগ কর্মকর্তাদের ওপর অতি নির্ভরশীল একজন মানুষ, যার রয়েছে মূল্যায়নের ওপর অগাধ বিশ্বাস, এবং একজন মানুষ যিনি গত দুই বছরে দুবার মধ্যপ্রাচ্য নীতি পরিবর্তন করেছেন”।

জি-টোয়েন্টি হচ্ছে বিশ্ব নের্তৃবৃন্দের জন্য এমন একটি মিলনক্ষেত্র যেখানে মূল বিষয়ের পাশাপাশি তারা দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়েও আলোচনার সুযোগ পান। তবে প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে তার রাশিয়ান সহপক্ষের সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা নাই। যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁসকারী পলাতক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয়দানের পর গতমাসে ওবামা পূর্ব নির্ধারিত মস্কো সফরসূচী বাতিল করেন। তিনি রাশিয়ার মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন।

সম্মেলনের পূর্বে প্রেসিডেন্ট পুতিন তার সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড নিরাপদ করেছেন।

“ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, মানবাধিকার সংরক্ষনসহ এ বছর এনজিও বা বেসরকারী সংগঠনগুলোর কর্মকান্ডে সরকারী সূত্রের অর্থায়ন তিনগুনেরও বেশী ছিল।সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দশ কোটি ডলারেরও বেশী অর্থ দেয়া হয়”।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কুড়ি দেশ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ এবং বিশ্ব অর্থনীতির ৯০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী। শুনুন:

XS
SM
MD
LG