অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগান প্রেসিডেণ্ট গানির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ওপর বিশেষ প্রতিবেদন


আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি এখন যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। সোমবার তিনি এবং আফগানিস্তানে ক্ষমতা ভাগাভাগি সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লা আবদুল্লা ক্যাম্প ডেভিডে পররাষ্ট্র মন্ত্রী John Kerry, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী Ashton Carter, অর্থ মন্ত্রী Jack Lewর সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হন। আজ হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট গানি আলোচনা করছেন । এ সম্পর্কে ভয়েস অফ আমেরিকার প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত শোনাচ্ছেন রোকেয়া হায়দার ও সেলিম হোসেন

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লা আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরী বলেন, তারা আফগানিস্তানের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ন সব বিষয়, যেমন তালেবানদের হামলা, আল কায়দা যোদ্ধাদের হুমকী দেশের নিরাপত্তা রক্ষা নিয়ে কথা বলেছেন।

‘আজ আমাদের আলোচনায় বর্তমানের জটিল অবস্থা প্রতিফলিত হয়, আফগানিস্তানের জাতীয় সংহতি সরকার, যারা দেশ ও জনগনের পূর্ণ নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন, নিজেদের প্রনীত সংস্কার কর্মসুচী নিয়ে এগিয়ে চলেছেন’।

প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ শুধুমাত্র শান্তিতে বসবাস করবে তাই নয়, তারা মর্যাদার সঙ্গে সমৃদ্ধির পথে এগোয়ে যাবেন সেটাই কাম্য’।

জন কেরী বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার কথায় বিরাট পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি এর আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আফগানিস্তান থেকে কিছুটা ধীর গতিতে সৈন্য প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে প্রেসিডেন্ট ওবামা তো ২০১৬ সালের পর আফগানিস্তানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের দুতাবাসের নিরাপত্তার জন্য সৈন্য রাখার কথা বলেছেন। এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী কেরী এ বছর পরে কাবুল সফর করবেন বলে কথা রয়েছে।

হ্যাঁ। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯ হাজার ৮শো সৈন্য এখন রয়েছে যারা আফগান সেনাদের পরামর্শ প্রশিক্ষণ দেবে। যোদ্ধৃ সেনারা ২০১৪ সালেই সেখান থেকে চলে গেছে। ভয়েস অফ আমেরিকার আফগান বিভাগের সাইদ সুলেমান আশনার সঙ্গে সাক্ষাতকারে প্রেসিডেন্ট গানি বলেন,

‘নেটো যখন আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বভার হস্তান্তর করছিল তখন আমার সুযোগ হয়েছিল সেই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেবার এবং সহযোগিতা করার। তখনকার পরিস্থিতি, আজকের সময়ের তুলনায় ভিন্ন ছিল। ঐ সময় উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াযিরিস্তানে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা বা চিন্তাও করা হয়নি। এমনকি আফগানিস্তানে তার কি প্রভাব পড়বে, সে কথাও ছিল চিন্তাভাবনার বাইরে। দ্বিতীয়তঃ, তখন ইসলামিক স্টেট জঙ্গীদলের হুমকির বিষয়টিও মানুষের মনে ছিল না। এর ওপর, সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্কেরও গুণগত পরিবর্তন ঘটেছে। এবং তারা নানা উপায়ে আফগানিস্তানের ওপর মনোনিবেশ করেছে’।

আশরাফ গানি তার সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে যে সব পদক্ষেপ নিয়েছেন সে কথা তুলে ধরেন।

‘প্রথমতঃ, আমরা একটি পদক্ষেপ নিয়েছি। জাতীয় ঐক্য সরকারের প্রথম দিনই, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা এবং নেটোর সাথে একটি বহুপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। সরকার গঠনের দ্বিতীয় দিন, আমরা দুর্নীতির দিকে নজর দিয়েছি এবং কাবুল ব্যাংকের মামলাটি আবারও শুরু করেছি। আর তৃতীয় দিন, আমি সামরিক বাহিনী কম্যান্ডার-ইন-চিফের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। আমরা বসে না থেকে পদে পদে আমাদের কর্মসূচী বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি’।

তিনি তালেবান বিদ্রোহীদের পরাস্ত করার শপথ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র অভিন্ন হামকীর মোকাবেলা করছে এবং তাই আফগানসি্তানের স্বার্থ নিশ্চিত করা এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন।

আজ পরে তারা মধ্যাহ্ণ ভোজে মিলিত হবেন এবং সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দেবেন।

XS
SM
MD
LG