অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

যুক্তরাষ্ট্রে আজকাল ঘরে বসে দপ্তরের কাজ করা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

  • রেবেকা উইলিয়ামস

যুক্তরাষ্ট্রে আজকাল ঘরে বসে দপ্তরের কাজ করা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

যুক্তরাষ্ট্রে আজকাল ঘরে বসে দপ্তরের কাজ করা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

আমেরিকায় প্রায় তিন কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ বাড়ীতে অথবা কফি হাউসে বসে মাসে অন্ততপক্ষে একদিন দপ্তরের কাজ করে। মনে হয় এভাবে পেট্রোল ও টাকা কম খরচ হয় ।

আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠান সান্ মাইক্রোসিসটেম। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা যাদের তারা বলে টেলি-কমিউনিকেটিং। তারা যেখানে খুশি সেখান বসে তাদের দপ্তরের কাজ সমাধা করতে পারে। এই প্রতিষ্ঠান ২০০৭ সালে এমনি টেলি কর্মীদের ওপর একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল। তাতে দেখা গেছে সাধারনভাবে টেলিকর্মচারীরা যাতায়াতের জন্য বছরে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার বাঁচায় । এই গেল একটা দিক। তবে গোটা ব্যাপারটা আরো জটিল । ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রকৌশল বিষয়ের অধ্যাপক আর্পাদ হরভাথ যেমন বলছিলেন----

‘ টেলি কর্মচারীকে দপ্তরে সেই সঙ্গে বাড়িতে অফিস রাখতে হয়। আপনি দুটি দপ্তরই ব্যবহার করছেন তাতে দুটি স্থানেই জ্বালানী পুড়ছে এবং অন্যান্য সামগ্রী যোগান দিতে হচ্ছে।’

অধ্যাপক হরভাথ বলেন ঘরে বসে কাজ করলে একদিকে হয়তো পেট্রোল কম খরচ হচ্ছে কিন্তু বাড়িতে বিদ্যুত্ বা গ্যাস পুড়ছে বেশী। অনেক সময় ঘরে থাকার দরুন খুটিনাটি কাজ সারতে অনেকে গাড়ী নিয়ে বেরিয়ে পড়ে যখন তখন। সত্যিকার অর্থে জ্বালানী বাঁচাতে হলে একদিন বা দুদিন ঘরে বসে কাজ করলে হবেনা পুরো সময়ের জন্যই করতে হবে। দপ্তরের ব্যবস্থাটাই তুলে দিতে হবে। আর বিনোদনের জন্য যখন তখন গাড়ী নিয়ে বেরুনো কমিয়ে দিতে হবে ।

টেলিওয়ার্ক রিসার্চ নেটওয়ার্কএর এক জরীপে বলা হয় আমেরিকায় কর্মজীবিদের মোট দুশতাংশ পুরোসময়ের জন্য ঘরে বসে কাজ করে। বিশারদরা বলছেন এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দূরে বসে কর্মচারী কাজ করবে এ ব্যাপারে কর্তা ব্যক্তিদের আস্থা বা বিশ্বাস কতখানি। কেমন করে এ ধরনের কাজ তত্বাবধান করতে হয় সেটা তাদেরকে শিখতে হবে।

অন্যদিকে ঘরে বসে যে বা যারা কাজ করছে তারা বড্ড একা হয়ে পড়ে। আর তাই টেলিকর্মীদের মধ্যে কয়েকজন এক স্থানে বসে কাজ করতে শুরু করেছে অর্থাত্ দূরে দপ্তরে না গিয়ে।

মাইক কেসলার এমনি একটি কর্মস্থলের ব্যবস্থা করেছেন । তিনি একটা বড় ঘর নিয়েছেন যার সামনেই কফি হাউস। কয়েকজন, একা একা ঘরে বসে কাজ না ক’রে সেখানে জড়ো হয়ে কাজ করে । মাইক কেসলার বলছিলেন—

‘পরিবেশগত দিক থেকে এর সুবিধে হলো যারা একত্রে বসে কাজ করছে তাদের সবার প্রয়োজন প্রায় এক। চেয়ার, টেবিল, কফি, বৈঠক করার একটি ঘর, বাথরুম ইত্যাদি। আরেকটা সুবিধা এরা সব কাছাকাছি থাকে ।

তবে কিছু বিশারদ বলছেন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কাছে শুধু জ্বালানী বা পেট্রোলের খরচ কমানোই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। তারা চায় তাদের ভাল কর্মীদের ধরে রাখতে, উত্পাদনশীলতা বাড়াতে। কর্মীরা যদি দপ্তরে না গিয়ে সেটা করতে পারে, যদি তারা দুটো পয়সা বাঁচাতে পারে তবে ক্ষতি কী?

XS
SM
MD
LG