অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অস্ত্র আইন কঠোর করার বিষয়ে কংগ্রেসের প্রতি চাপ সৃষ্টির আহবান


দেশের নানা স্থানে অস্ত্র ব্যাবহার করে হত্যাকান্ড ঘটানোর প্রেক্ষিতে অস্ত্র আইন কঠোর করার বিষয়ে কংগ্রেসের প্রতি চাপ সৃষ্টির জন্য আমেরাকানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের অদূরে ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সে এক নাগরিক সভায়, বিতর্কিত এই অস্ত্র আইন নিয়ে প্রসিডেন্ট সেখানে উপস্থিত লোজকনের মতামত শোনেন। হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা ম্যারি এলিস স্যালিনাসের (Mary Alice Salinas) রিপোর্ট শোনাচ্ছেন সেলিম হোসেন:

মানুষের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌছানোর ব্যাপারে বিধিনিষের আরোপের ক্ষেত্রে সরকার কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে এই বিতর্কিত প্রশ্নই ছিল টাউনহল সমাবেশের প্রধান আলোচনা। প্রসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন অস্ত্রের মালিকানা পাওয়ার বিষয়ে আমেরিকানদের সাংবিধানিক অধিকার অক্ষুন্ন রেখেই যুক্তরাষ্ট্র আরো অনেক কিছু করতে।

“যারা আত্মরক্ষার জন্যে শিকারেরর জন্যে বা খেলাধূলার জন্যে অস্ত্র রাখতে চান তা আমি সম্মান করি। তবে আমরা সবাই এই মর্মে একমত হতে পারি যে, যারা অন্য মানুষের ক্ষতি করতে পারে তাদের হাত থেকে যেনো আগ্নেয়াস্ত্র দূরে রাখা যায় সেজন্যে যা যা করার তার সবকিছু করাটা অর্থপূর্ন”।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা অতীত সম্পর্কে খোঁজ খবর করা ও আইন সৃংখলা রক্ষাসহ এ বিষয়ক একটি নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করেন।

রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস কর্তৃক অস্ত্র আইন কঠিন করার বিষয়টি বাতিল করায় তাদেরকে দোষারোপ করে প্রেসিডেন্ট বলেন তারা প্রভাবশালি National Rifle Association এর কাছে নতি স্বীকার করেছেন।

টাউনহল সমাবেশে যোগ দেয়ার আমন্ত্রনপত্রই গ্রহণ করেনি National Rifle Association. তবে প্রেসিডেন্ট ওবামা কয়েকজনের অভিযোগ শোনেন।

সন্ত্রাসের শিকার হওয়া এক নারী প্রশ্ন করেন: “আপনার প্রশাসন অস্ত্রের ওপর যে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে চাচ্ছেন তাতে আমার জন্য অস্ত্র রাখা কঠিন হবে অথবা অস্ত্র রাখার অনুমতি হলেও যেখানে তা আমার ব্যাবহার করা দরকার সেখানে নেয়ার অনুমতি মিলবে না; এতে করে আমার এবং আমার সন্তানদের নিরাপত্তা কমে যাচ্ছে”।

জবাবে প্রসিডেন্ট ওবামা বলেন: “এমন কিছুই আমরা প্রস্তাব করছি না যাতে আপনার যদি সত্যিই অস্ত্রের প্রয়োজন থাকে; সেক্ষেত্রে আপনাকে তা কিনতে বাধা দেবে অথবা কঠিন করবে”।

অস্ত্রের পক্ষে যারা লবি করছেন তারা আদালতের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হুমকী দিয়েছে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের জন ম্যালকম বলেন, “অস্ত্রের লাইসেন্স পাবার যোগ্যতা নির্ধারণে যদি প্রেসিডেন্ট কড়াকড়ি আরোপ করেন; তবে যারা শখে অস্ত্র সংগ্রহ করেন, তারা বিপদে পড়বেন”।

অনেকে বলছেন অস্তো্র আইনে যেসব ফাক ফোকর রয়েছে, একমাত্র কংগ্রেসই পারে তার সমাধান করতে। সেন্টার ফর এ্যামেরিকান প্রগ্রেসের চেলসি পার্সনস বললেন: “এই বিষয়টির সঠিক সমাধান করতে হলে সঠিক আইন করতে হবে, কংগ্রেসকে ঐসব প্রভাবশালী অস্ত্রের লবিকারিদের মতের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে এবং গত বছর তিনেক ধরে অস্ত্র অইন সংস্কারের দাবীতে আমেরকানরা যে বলে আসছে তার পক্ষে কাজ করতে হবে”।

হোয়াইট হা্উজ বলছে প্রেসিডেন্ট আশা করেন অস্ত্র আইন কড়া করার পক্ষে অনেকেই কথা বলবেন এবং আশা করছেন ভোটাররা অস্ত্রের পক্ষের প্রভাবশালী লবিকারীদের প্রতিহত করবেন।

XS
SM
MD
LG