অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শরীফ-উল-হক
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা


মানুষ যখন একের পর এক প্রাণঘাতী সব রোগকে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে সক্ষম হচ্ছে, তখন কিছু কিছু রোগ যেন বেঁকে বসেছে। যেন এক রকম পণই করেছে তারা পৃথিবী না ছাড়ার। হেপাটাইটিস এমনই একটি ভাইরাস।যার আবিস্কার ১৯৮৯ সালে। সে তার পাঁচ সন্তান(এ,বি,সি,ডি,ই)নিয়ে মানুষের উপর এখনও আক্রমণ করে যাচ্ছে। লিভারের রোগের প্রধান কারণ এই হেপাটাইটিস ভাইরাস। এর মধ্যে লিভার ক্যান্সার এর জন্য হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস ২৫-৫০ভাগ দায়ী এবং লিভার সিরোসিসের জন্য দায়ী ৪১ভাগ। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসটি নিয়ে কথা হয়েছিল ডা. আনোয়ারুল আলমের সাথে। ডা. আনোয়ার বললেন, হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলোর মধ্যে ভাইরাস-বি এবং সি সবচেয়ে মারাত্মক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(ডব্লিউএইচও) হিসেব অনুযায়ী হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর বিশ্বে ১৪ লাখ মানুষ মারা যায়। ইউনির্ভাসিটি অব ওয়াশিংটন পরিচালিত ‘গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ’ বিষয়ক এক গবেষণার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, গত বছর এই ভাইরাসের শিকারে মারা পড়েছে ১০ লাখ মানুষ। হেপাটাইটিস-এ ভাইরাসটি ছড়ায় মলের মাধ্যমে। বি ভাইরাসটি ছড়ায় রক্তের মাধ্যমে। সি ভাইরাসটিও ছড়ায় রক্তের মাধ্যমে। ডি বা ডেল্টা ভাইরাসটি ছড়ায় রোগীর ব্যবহৃত দূষিত সিরিঞ্জ, ছুড়ি, কাঁচি ইত্যাদি থেকে। ই ভাইরাসটি ছড়ায় পানি ও মলের মাধ্যমে। বাংলাদেশে ১০ থেকে ১১ ভাগ মানুষ হেপাটাইটিস –বি এবং সি তে আক্রান্ত।

পাঁচটি ভাইরাসের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সি ভাইরাসের টিকা এখনও আবিস্কার হয়নি। টিকা নেয়ার মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব। ডা. আনোয়ার বললেন, প্রাথমিক প্রতিষেধক হিসেবে তিনটি ডোজ নিতে হয়। প্রথম ডোজটি নেয়ার এক মাস পর দ্বিতীয়টি এবং সর্বশেষটি নিতে হবে প্রথম ডোজ নেয়ার ৬ মাস পর। ৫ বছর পর বুস্টার ডোজ নেয়া যেতে পারে তবে সেটা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।

সি ভাইরাসটি বাদে বাকিগুলো টিকা নেয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে সচেতনতা সৃষ্টি। দূষিত রক্ত গ্রহণ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার, আক্রান্ত ব্যাক্তির ব্যবহৃত ব্লেড বা রেজার ব্যবহার এবং অনিরাপদ মেলামেশা থেকে বিরত থাকলে হেপাটাইটিস-বি এবং সি ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।
XS
SM
MD
LG