অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অভিবাসন সংস্কার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ কার্যকর হবেই: বললেন বিশেষজ্ঞরা


nasreen ahmed

nasreen ahmed

যুক্তরাস্ট্রের কয়েক লক্ষ কাগজপত্রবিহিন অভিবাসির বৈধতা প্রদান সংক্রান্ত অভিবাসন সংস্কার বিষয়ক একটি নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত মাসে। এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা সবই মূলত বহিস্কারাদেশ প্রাপ্ত ল্যাটিন আমেরিকানদেরকে নিয়ে। কাগজপত্রবিহিন ১৩ লক্ষ এশিয়ান অভিবাসি প্রায়শই: আড়ালে পড়ে থাকেন। এ নিয়ে ভয়েস অব আমেরিকার এলিজাবেথ লির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিবাসন আইনজীবি এবং বাংলাদেশী অভিবাসিদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট করছেন সেলিম হোসেন:

“এই দেশে বসবাসরত লক্ষ লক্ষ কাগজপত্রবিহিন অভিবাসির জন্য আমরা দায়িত্বশীল কাজ করবো”; প্রেসিডেন্ট ওবfমা বলছিলেন, অভিবাসন সংস্কারের নির্বাহী আদেশ দেয়ার সময়।

কাগজপত্রবিহিন লক্ষ লক্ষ অভিবাসি, যারা অপেক্ষায় ছিলেন এমন একটি ঘোষণা শুনবার, প্রেসিডেন্টের ঘোষণায় তাদের অনেকেই আনন্দে উদ্বেলিত হলেন। উৎফুল্ল হলেন, উদ্ভাসিত হলেন নতুন আশায়।

ল্যাটিনো এক নারী “বলছিলেন, অনেক আশা জেগেছে অন্তরে। আমাদেরকে আর ভয় ভীতির মধ্যে বসবাস করতে হবে না”।

আরেক নারী বললেন, “আমরা জানি এটা সকল দলের ঐক্যমত্যে বাইপার্টিজান বিল হিসাবে আসতে হবে। রিপাবলিকানদের বোঝা উচিৎ যে অভিবাসন বিল পাশ করা প্রয়োজন”।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামার ঘোষণায়, রিপাবলিকানদের প্রতিক্রিয়া হয়েছে বিপরীত। খোদ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার জন বেয়নার বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিজেই অভিবাসন আইন সংস্কারে বাইপার্টিজান সিদ্ধান্তের সুযোগ বন্ধ করে দিলেন”।

একই ধরণের মন্তব্য অপর রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাকনেল। তিনিবলেন, “ভুল করবেন না; ভুল করবেন না। নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে বসার পর-এর প্রতিবাদ করবে”।

অভিবাসন সংস্কার আইন নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। তাই মানুষের মনে সন্দেহ যে; রিপাবলিকানদের প্রতিরোধের মুখে প্রেসিডেন্টের এই নির্বাহী আদেশ আদেৌ কার্যকর হবে কি না তা নিয়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য এ নির্দেশ কার্যকর হবেই। যেমনটি বলছিলেন কংগ্রেশনাল স্কলার টমাস ম্যান।

“প্রেসিডেন্টের এই নির্বাহী আদেশ উল্টানোর একমাত্র পথ হচ্ছে নির্বাচনে জেতা। নির্বাচনে জিতে তাদের দলের নতুন প্রেসিডেন্টেই শুধুমাত্র এই আদেশ বদলাতে পারেন”।

একই ধরণের মন্তব্য নিউইয়র্কের অভিবাসন আইনজ্ঞ নাসরীন আহমেদ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের কাগজপত্রবিহিন অভিবাসিদের পাশাপাশি বাংলাদেশীদের সহায়তা করে আসছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার অভিবাসন আইনে কি থাকছে আর কিভাবে তাতে আবেদন করতে হবে, সে বিষয়েও কথা বললেন নাসরীন আহমেদ।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এই নির্বাহী আদেশের আওতায় ৫০ লক্ষ অভিবাসির মধ্যে অন্তত ৪ লক্ষ কাগজপত্রবিহিন এশিয়ান বহিস্কারাদেশ থেকে মাফ পেলেও অন্যান্যদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। আর কাগজপত্রবিহিন বাংলাদেশী অভিবাসিদের অনেকেই জানেনইনা কি রয়েছে এই আইনে, কিভাবেই বা তাতে আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কে এ বিষয়ে সহায়তা করতে তৎপর হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সর্ববৃহৎ আঞ্চলিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি; বললেন সোসাইটির কর্মকর্তা ফারহানা চৌধুরী।

চীনের হাইস্কুল শিক্ষার্থী পিটার লিউ, আর্থিক অনটনসহ নানা পারিবারিক সমস্যার কারনে যুক্তরাস্ট্রে চলে আসে। পর্যটক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সে থেকে যায় যুক্তরাস্ট্রে, লিউ অবৈধ অভিবাসি কিন্তু ওবামার নির্বাহী সুবিধা পাচ্ছেন না

“লিউ বলছিলেন সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন ছিল; কারন সে জানতো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাস্ট্রে অবৈধ হয়ে থাকার কারণে বহু বছর হয়ত তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দেখা হবে না”।

লিউ এখন লস এঞ্জেলেসে বাস করেন, একজন অবৈধ অভিবাসি হিসাবে। কাজ করতে না পারায় এখন সে তার লেখাপড়ার খরচ যোগাড় করা নিয়ে উদ্বিগ্ন। শিশু বয়স পার করে যুক্তরাস্ট্রে আসায়, অভিবাসন সংস্কার বিষয়ে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ওবামার নির্বাহী আদেশের আওতায় সে পড়ছে না। লিউ বললেন, যারা এর আওতায় পড়বে, তাদের অনেকেও এতে আবেদন করতে ভয় পাচ্ছেন।

“বলছিলেন বহু এশিয়ানই এতে আবেদন করতে ভয় পাবেন; কারন এতে তাদের পরিবারের সদস্যরা যারা এ্যাতোদিন লুকিয়ে ছিলেন তা আর তারা পারবেন না”।

প্রেসিডেন্ট ওবামার নির্বাহী আদেশের অন্যতম প্রধান একটি বিষয় হচ্ছে যারা ৫ বছর বা ততোধিক সময় যুক্তরাস্ট্রে বাস করছেন এবং যুক্তরাস্ট্রে তাদের বৈধ সন্তান রয়েছে; বহিস্কারাদেশ থেকে তাদেরকে সুরক্ষিত রাখা। এই আদেশের আওতায় তারা কাজ করারও সুযোগ পাচ্ছেন।

“নাগরিকত্বও দেয়া হচ্ছে না, এখানে গ্রীন কার্ডও দেয়া হচ্ছে না। একমাত্র কংগ্রেসই তা দিতে পারে। এর মাধ্যমে আপনারা বহিস্কার হওয়া থেকে রক্ষা পাচ্ছেন”।

তবে যারা যুক্তরাস্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকী কিংবা যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এই আইনে তারা বহিস্কারাদেশের আওতা থেকেও রক্ষা পাবেন না। এ বিষয়ে বললেন নাসরিন আহমেদ।

কম্বোডিয়ার শরনার্থী ডেভিড রস এর আওতায় পড়েছেন। ১৬ বছর বয়সে তিনি এক হত্যা মামলায় অপরাধী হয়ে ১৯ বছর জেল খাটেন এবং পার্মানেন্ট রেসিডেন্সী হারান। এখন বহিস্কারাদেশের আওতায় রয়েছেন।

ডেভিড রস বলেন, “আমি যখন এই দেশে আসি তখন ইংরেজী জানতাম না, লেখাপড়া জানতাম না, টাকা পয়সা ছিল না। প্রচুর সংগ্রাম করেছি; করেছি নানা রকম ভুলও”।

এশিয়ান এ্যামেরিকানস এ্যাডভান্সিং জাস্টিস, এশিয়ান ল ককাসের তথ্যানুসারে, দক্ষিন পূর্ব এশিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিবাসিদের ক্ষেত্রে অপরাধের দায়ে বহিস্কারাদেশের হার অন্যান্য অভিবাসিদের চেয়ে ৫ গুন বেশী। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টার আইনজীবি শিউ মিং চিয়ার বললেন এর কারন বিবিধ এবং জটিল।

মিং বলেন, “শরনার্থী বিষয়ক নীতিমালা দুর্বল এবং প্রচুর সংখ্যক দক্ষিন পূর্ব এশিয়ান অপরাধ প্রবণ এলাকায় বসবাস করার কারনে তারা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাদের সহযোগিতা করার জন্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান কম বিধায় তারা বেশী মাত্রায় অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন”।

ডেভিড রসের ন্যায় অনেক দক্ষিন পূর্ব এশিয়ান অভিবাসি জেল খাটার পর জীবনকে একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। চাকরী আছে, পরিবার আছে, সন্তান আছে। তারাও আশা করেন হয়ত একদিন আইন পরিবর্তিত হবে যাতে অপরাধের প্রমান থাকা এবং বহিস্করাদেশপ্রাপ্ত অভিবাসিরাও বৈধতা পাবে। আর তাই ডেভিড রস এবং পিটার লিউ মত অভিবাসিরা বহিস্কারাদেশের ঝুঁকি থাকা স্বত্বেও বাইরে যাচ্ছেন, কথা বলছেন আইনজীবিদের সঙ্গে এবং আশা করছেন আইন তাদেরকে একদিন সহায়তা করবেই।

XS
SM
MD
LG