অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সংখ্যালঘু বাংলাদেশিদের ভারতে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব দেয়ায় অসমে আপত্তি


বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের টার্গেট করে ধর্মীয় সংঘাত চলছে। বহু বাংলাদেশী হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলেছেন তারা মুসলমান প্রধান বাংলাদেশে নিরাপদ বোধ করেন না এবং হিন্দু প্রধান ভারতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ নিয়ে ভয়েস অব আমেরিকার মাজ হুসেইন ও শেখ আজিজুর রহমানের প্রতিবেদন শোনাচ্ছেন সরকার কবীরুদ্দীন ও সেলিম হোসেন।

ভারতের সীমান্ত রাজ্য আসম, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশী শরনার্থীদের গন্তব্যে পরিণত হলেও; আসমের বেশ কয়েকটি হিন্দু সাম্প্রদায়িক দল বলেছে তারা বাংলাদেশীদেরকে তাদের দেশে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেবে না।

বাংলাদেশের হিন্দু সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শিপন কুমার বসু ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। বস্তুত অতি সম্প্রতি বেড়েছে”।

তিনি বলেন, “তাদের অনেকেই বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে চান। আর প্রতিবেশি হিন্দু প্রধান ভারত হচ্ছে তাদের জন্যে নিরাপদ গন্তব্য”।

অসমের আদিবাসি আন্দোলনের নেতা মানজিত মাহান্ত ১৯৮৫ সালের আসম আইনের বরাত দেন যাতে, কেউ বাংলাদেশ থেকে অসমে প্রবেশ করলে তাকে অবৈধ বলে ধরে নেয়া হবে। মাহান্ত বলেন বাংলাদেশি হিন্দুদেরকে অসমে ঠেলে দেয়ার অবস্থা সৃষ্টি করা যাবেনা একে ধ্ধংস করতে।

মাহান্ত বলেন, “ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চ পর্যন্ত অসম শত সহস্র হিন্দু ও মুসলমান শরনার্থীদেরকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে ১৯৭১ সালের পর যে সকল বাংলাদেশী অভিবাসি অবৈধভাবে এসেছেন বা এখনো আসছেন; তাদেরকে এখানে স্থায়ী হওয়ার অনুমতি দেয়া হবে না”।

হিন্দু নির্যাতন:

মোট ১৬ কোটি জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও বেশি মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশে বহুদিন থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। গত বছরের শুরু থেকে দেশটিতে হিন্দু বিরোধী নিগ্রহের ঘটনা বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলেছেন এ বছর ৩২ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে এবং অভিযোগ করেছেন ৫৫০টিরও বেশি হিন্দু মন্দির বা প্রার্থনালয়ে হামলা করা হয়েছে।

অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া জেলার স্থানীয় এক হিন্দু তরুন ফেসবুকে কাবা শরীফের বিকৃত ছবি পোষ্ট করার পর কিছু ইসলামী দল ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া জেলায় হিন্দু-বিরোধী প্রতিবাদের আয়োজন করে।

সমাবেশে মুসলমান নেতৃবৃন্দ ঐ তরুনকে জনসমক্ষে ফাঁসি দেয়ার দাবী করে এবং ১৭টি হিন্দু মন্দিরে হামলা ও শতাধিক হিন্দু বাড়ীঘর ভাংচুর করে। সেই ঘটনায় আহত হয় দুই ডজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

গত বুধবার থেকে ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ায় প্রতিবাদকারীরা দুটি হিন্দু বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে এবং বেশ কিছু প্রতিমা ধ্ধংস করে দেয়।

বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন ঐ ঘটনায় দায়িদের ধরার চেষ্টা চলছে।

XS
SM
MD
LG