অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতে এখন অন লাইনে কেনাকাটার ধুম পড়ে গেছে। ইন্টারনেটের একটি বোতাম টিপে জামাকাপড় থেকে শুরু করে প্রসাধন বা উপহার সামগ্রী কেনার চমক সবার মন কেড়েছে। বলা হচ্ছে গত পাঁচ বছরে ই-বাণিজ্য ৪শো শতাংশ বেড়েছে ।
আসুন এ বিষয়ে নতুন দিল্লী থেকে অঞ্জনা পাসরিচার পাঠানো প্রতিবেদন শোনা যাক রোকেয়া হায়দারের কাছে।

প্রসাধন সামগ্রী, অলংকার, ব্যাগ, ঘড়ি যাই কেনার ইচ্ছে হোক না কেন শ্বেতা এ্যান্ড্রুস এখন আর দোকানে গিয়ে দরদাম করার জন্য অপেক্ষা করেন না। তিনি বলেন তার কর্মব্যস্ততার মাঝে ইন্টারনেটে খোঁজ খবর করে জিনিষ কেনা অনেক সহজ। আর ই বাণিজ্যের সুবিধায় নানান জিনিষ ঘরে বা কাজের মাঝে বসেই বেছে নেওয়া যায়।
শ্বেতা বললেন – ‘আমার ভারী পছন্দ। কিছু যদি কিনতে চান মাত্র ১৫ মিনিটে বেছে নিতে পারবেন। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যান, কিনে ফেলুন আপনার পছন্দের জিনিষ ব্যস্ কেনা শেষ। চমত্কার বাইরে যাওয়ার কোন প্রয়োজনই হবে না’।
ভারতের ৫০ হাজার কোটি টাকার পাইকারি বিক্রীর সামান্য একটি অংশ এই ই-বাণিজ্য। তবে দিনে দিনে বিক্রী বাড়ছে কারণ তরুন বয়সীরা যারা বেশী কেনাকাটা করেন, তারা কিন্তু ইন্টারনেটে অনেক সময় কাটান তারাই ইন্টারনেটে এ ধরণের কেনাকাটায় বেশ স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
ভারতে এখন ২ লক্ষ ক্রেতা অন লাইনে জুতা, জামাকাপড় থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিন বা প্রসাধনের জিনিষপত্র কেনাকাটা করেন। আর তাদের বেশীরভাগ থাকেন বড় বড় শহরগুলোয়।
স্নাপডিল ডট কমএর মত কোম্পানীগুলো তাদের আকর্ষণ করে বেশী।
কুনাল ব্যাহল হলেন স্ন্যাপডিলের সহপ্রতিষ্ঠিতা। তারা তিন বছর আগে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছেন। আগে তিনি ওয়েবসাইটে পণ্যসামগ্রী কেনার জন্য কুপন বা কম দামে পাওয়ার কার্ড বিক্রী করতেন। এখন তার অনলাইন ব্যবসা রমরমা। বহু জিনিষ পাওয়া যায়। কুনাল বলেন – ‘আমরা শুরুতেই এর কার্যকারিতা দেখেছি। আমরা তিনমাসে যে বিক্রীর কথা ভেবেছিলাম, এক সপ্তাহেই, মানে প্রথম সপ্তাহেই তা পুরো হয়েছে। আর দেখলাম যে নতুন কাজ শুরু করেই আমরা অনলাইনে খুব ভাল ব্যবসা করছি। তবে আমাদের প্রচেষ্টা নয়, ইন্টারনেটে বাজারে যে চাহিদা রয়েচে সে কারণেই তা হয়েছে’।
কুনাল আশা করেন যে, ২০১৫ সালের মধ্যে তাদের ১শো কোটি ডলারের বিক্রী ছাড়িয়ে যাবে।
তবে পাইকারী বিক্রেতারা যে সব সমস্যার সম্মুখীন তা অনলাইনে বিক্রীর মাধ্যমেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না-ও হতে পারে। কারণ দিনে দিনে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু কোম্পানীগুলোর লাভের অংক তেমন বাড়ছে না।
বাজার গবেষণা সংস্থা ইওরো মনিটারের শবরী দাস বলেন, অনলাইনের বেশীরভাগ বিক্রেতা মূল্য হ্রাস দেখিযেই ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। বিরাট মূল্য হ্রাস, একেবারে বাড়ীতে জিনিষ নিখরচে পৌঁছে দেওয়া এইসব সুবিধার কথা বলেই ক্রেতাদের আকর্ষণ করে। তখন লাভের অংকটা কমে যায়। তিনি বলেন, ‘যখন ক্রেতাসাধারণকে ছাড় দেওয়ার কথা বিবেচনা করেন, সেই প্রেক্ষিতে কিন্তু তার মূল্য অনেক বেশী পড়ে। জিনিষ পত্রের আসল দামের কথা বিবেচনা করতে হবে। ক্রেতার কাছে সেটা পাঠানোর খরচ। আর যখন নগদ টাকা দিয়ে জিনিষ বিক্রী করেন তখন প্রথমে বলতে গেলে কোন দাম না নিয়েই সেটা পাঠাবার ব্যবস্থা করতে হয়’।
এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও, অনলাইনে ব্যবসা বাড়ছে। ওয়েবসাইটে ক্রেতাদের উত্সাহিত করা হচ্ছে। শ্বেতা এ্যান্ড্রুসের মত খরিদ্দাররা মনে করেন – অনলাইনে সবসময়েই কোন না কোনভাবে কম দামের বিষয়টিই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, আর সেটাই বড় লাভ। তা ছাড়া দোকানে ঘুরে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই, অর্থাত্ সময়, টাকা সবই বাঁচে।
ভারতের ১শো কোটি ২০ লক্ষ মানুষের দুই তৃতিয়াংশের বয়স ৩৫ বছরের কম। তারাই ওয়েবসাইটে সময় কাটায় বেশী। আর বাজার গবেষকরা বলছেন্, তাদের জন্যই এই ই-ব্যবসা জমে উঠছে বেশী।
XS
SM
MD
LG