অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতের বিহারে জঙ্গী হাসান ইমাম গ্রেপ্তার


India

India

কলকতায় মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত এবং আফতাব-সঙ্গী হাসান ইমামকে ১৪ বছর পর বিহারের আওরঙ্গাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হল। কান্দাহারে বিমান ছিনতাইকাণ্ডেও সে অন্যতম অভিযুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এই অভিযুক্ত গুজরাত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তারপরই জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, কাপড়ের ব্যাবসার আড়ালে আসলে জেহাদি সংগঠনের হয়ে কাজকর্ম চালাচ্ছিল সে। আইএস সংগঠনকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। ব্যাবসার সূত্র ধরেই পরিচয় ভাঁড়িয়ে কলকাতায় এসেছিল। দু’বছর ধরে সে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় পলাতক আর এক অভিযুক্ত ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের (আইএম) অন্যতম মাথা আমির রেজা খানের হয়ে যারা কাজ করছে, তাদের মধ্যে যোগসূত্র ছিল এই হাসান ইমাম। গুজরাত পুলিশ সূত্রে এমনই দাবি করা হয়েছে। আমিরের হয়ে কাজ করা আইএম জঙ্গিরা এখন আইএসে ভিড়েছে বলে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছেন অফিসাররা। হাসানকে জেরা করতে গুজরাত রওনা হয়েছে কলকাতা পুলিশের এস টি এফের একটি টিম। শীঘ্রই তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। উল্লেখ করা যেতে পারে ২০০২ সালে কলকাতায় মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় যে বাইক ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি হাসানই সরবরাহ করেছিল বলে অভিযোগ। ধৃতকে জেরা করে জানা গিয়েছে, ঘটনার পরই সে কলকাতা ছেড়ে বিহারের আওরঙ্গাবাদে পালিয়ে যায়। পুলিশ যাতে তাকে চিনতে না পারে, সেজন্য সে চেহারাও বদলে ফেলে। শুরু করে কাপড়ের ব্যাবসা। এলাকায় সকলেই তাকে আরিফ নামে চিনত। প্রথমে খুচরো ব্যাবসা শুরু করলেও পরে পাইকারিতে নজর দেয়। এই সময় সে নিয়মিত পাকিস্তানে থাকা আইএম জঙ্গি আমির রেজা খানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। তদন্তে উঠে এসেছে, আইএম ভেঙে যাওয়ার পর আমির এখন আইএসের হয়ে কাজ করছে। আমিরের নির্দেশ মতোই কলকাতায় আইএসের সংগঠনের কাজকর্ম দেখাশুনার জন্য এখানে ঘন ঘন আসার প্রয়োজন হয়। সেই কারণেই বছর দুয়েক আগে আরিফ নামেই পরিচয়পত্র তৈরি করে। গুজরাত পুলিশের সন্ত্রাস দমন শাখার এসপি হিমাংশু শুক্লা জানিয়েছেন, এই ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়েই কলকাতায় আসা-যাওয়া করত হাসান ইমাম। কলকাতায় জেহাদি সংগঠনের কাজকর্মের পাশাপাশি আইএসের হয়ে কাজকর্ম শুরু করার ব্যাপারে কিছু তথ্য এসেছে। সেসব এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।

এ সম্পর্কে কলকাতা থেকে পরমাশিষ ঘোষ রায়ের রিপোর্ট।

XS
SM
MD
LG