অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০১৩ পর্ব ১, ছয়মাস পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়েছে


আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা
জন্মের ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিত্র ভালো। সর্বশেষ বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে) ২০১১’তে দেখা গেছে, ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার আগের দশকের (৪৩-৪৫ শতাংশ) থেকে ৬৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শুধু তা-ই নয় দুই বছর পর্যন্ত, অব্যাহত মায়ের দুধ খাওয়ানোর ৯৫ শতাংশ হার নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ এস কে রায় বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকে ক্রমান্বয়ে আমাদের ব্রেস্ট ফিডিং বা মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার এক রকমের ছিল। কিন্তু তারপরে ২০০৪ এর পরে আমরা বিশেষ মুভমেন্ট করি। ফলে ৪৩ ভাগ মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ৬৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
এদিকে বিশ্বব্যাপী শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রবণতা বা ওয়ার্ল্ড ব্রেস্ট ফিডিং ট্রেন্ডস ইনিশিয়েটিভ (ডব্লিউবিটিআই) পর্যালোচনায়ও বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছেছে। এই সাফল্যের ফলে হলুদ রং থেকে বাংলাদেশ নীল রঙের দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশের লক্ষ্য সবুজ রঙে পৌঁছানো। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সরকারি কর্মজীবী নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বুকের দুধের বিকল্প খাদ্য বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত আইনের খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
সরকারের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পুষ্টিবিদ এস কে রায় বলেন, ২০১২-১৩ তে যে সমস্ত বড় ধরণের সার্ভে হয়েছে, সেখানে দেখা গেছে, যেমন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিভিউত্‌ দেশে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ৬৬ শতাংশ হয়েছে। এ বছর এনএনএস’র একটা অপারেশন রিসার্চে এই হার এসেছে ৬৮ শতাংশ। তাই বলা যায় মায়ের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে দেশ ক্রমান্বয়ে ভালোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত: ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৫৪তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে শিশুকে জন্মের প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ২০০৩ সালের ৩১ মার্চ শিশুর জন্ম-পরবর্তী প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ এবং এর পর থেকে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি সহায়ক বাড়তি খাদ্য খাওয়ানোর সরকারি আদেশ জারি হয়। সেই থেকে ইউএসএআইডি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর সহায়তায় বিবিএফ এ বিষয়ে সরকারকে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।
এমন বাস্তবতায় আগামী পহেলা থেকে সাত আগষ্ট পর্যন্ত সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালন করা হবে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০১৩। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মায়ের দুধে শিশুর হাসি, মা তোমাকে ভালবাসি’। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের নানা আয়োজন ও আরো তথ্য নিয়ে আবার হাজির হবো আগামী প্রতিবেদনে। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।

XS
SM
MD
LG