অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০১৩ পর্ব ২, শিশু মৃত্যুরোধে মায়ের দুধের বিকল্প নেই


আঙ্গুর নাহার মন্টি
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায় - ইউএসএআইডি ও ভয়েস অফ আমেরিকা

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রথম প্রতিবেদনে আমরা শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেছিলাম। আজকের প্রতিবেদনে আমরা জানাতে চেষ্টা করব শিশুর জন্য মায়ের দুধ কেন গুরুত্বপূর্ণ, এবং মায়ের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য অর্জনের বাধা ও করণীয় সম্পর্কে।
মায়ের দুধ নবজাতক ও শিশু মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুমৃত্যু রোধে মায়ের ‍দুধের বিকল্প নেই। জন্মের মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করা গেলে নবজাতকের মৃত্যুর হার শতকরা ৩১ ভাগ কমে যায়। মায়ের দুধ প্রতি বছর ৫৫ হাজার নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধ করতে পারে। আর বুকের দুধ ও সম্পূরক খাবার বছরে ১৯ ভাগ শিশুমৃত্যু রোধ করতে পারে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) চেয়ারম্যান বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ এস কে রায় বলেন, “জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ানো হলে নবজাতকের মৃত্যুর হার ৩১ ভাগ কমে যায়। অর্থাৎ এদেশে আরো ৫৫ হাজার মৃত্যু কমানো যায়। আর ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো গেলে শিশু মৃত্যু কমে যায় শতকরা ১৩ ভাগ । যদি ছয় মাসের পর থেকে উপযুক্ত বাড়তি খাবার দিতে পারি তাহলে আরো ৬ শতাংশ শিশুমৃত্যু কমে যায়। মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করা হলে সব মিলিয়ে ১৯ ভাগ নবজাতক ও শিশু মৃত্যু রোধ করা যেতে পারে ।পৃথিবীতে আর কোন প্রতিরোধক নেই যা একসাথে ১৯ শতাংশ শিশুমৃত্যু কমাতে পারে।”
মায়েরা আজ ঘরের কাজ ও সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। ফলে, একদিকে কর্মজীবি মায়েরা সন্তানকে যথাযথভাবে বুকের দুধ ও সম্পূরক খাবার দিতে পারছেন না। অন্যদিকে দারিদ্র, অসচেতনতা ও আধুনিক মায়েদের অনীহার কারণে বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে কাঙ্খিত শতভাগ লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না বাংলাদেশ।
তবে বিবিএফের কর্মসূচীর সহকারী পুষ্টিবিদ শেখ নুসরাত জাহান মনে করেন, শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে নিজেদের সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে নুসরাত বলেন, “মায়েরা ইচ্ছা করলেই শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারেন।এটি সম্পূর্ণ মায়ের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। জন্ম থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পেট কখনোই মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কিছু নিতে প্রস্তুত না, এমনকি একফোঁটা পানিও না”।
গত পাঁচ দশক ধরে ইউএসএআইডি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুকে মায়ের ‍দুধ ও সম্পূরক খাদ্য খাওয়ানো নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। এক্ষেত্রে ইউএসএআইডি’র সহায়তা আজ আর শুধু পুষ্টি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নেই, বরং কৃষি, পরিবার পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দুর্যোগ সহায়তা এবং অন্যান্য বিশ্ব স্বাস্থ্য প্রকল্পেও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

XS
SM
MD
LG