অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণের সাক্ষাৎকার


গত শনিবার পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরিফের দল , পাকিস্তান মুসলিম লীগ সর্বাধিক ভোট পাওয়ায় তৃতীয় বারের মত তাঁর সরকার গঠনের সম্ভাবনা এখন পরিস্কার তবে তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ ও রয়েছে অগণিত। পাকিস্তানের প্রায় ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতিকে ঠিক করা যেমন , তেমনি পাকিস্তানি তালিবানের সঙ্গে একটি আপোষ রফায় পৌছানোও বড় চ্যালেঞ্জ । এসব বিষয় নিয়ে ব্রিটেনের একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক , ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণ , যিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির ওপর বিশেষ দখল রাখেন তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন , আনিস আহমেদ।
সাক্ষাৎকার পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে নেওয়াজ শরিফ এবং তাঁর দলের এই বিজয় সম্পর্কে ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণ তার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন।
তিনি বলেন যে প্রেসিডেন্ট ওবামা সহ বিশ্বের অনেক নেতাই স্বাগত জানিয়েছেন যে পাকিস্তানে আবার গণতন্ত্রের এক মোহন মূহুর্ত এসছে। পাকিস্তানে তো বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে সামরিক শাসনের অধীনে । সুতরাং এটি হচ্ছে পাকিস্তানের গণতন্ত্রের জন্যে একটি মাইলফলক। তবে এ কথা সত্যি যে সমস্যা রয়েছে অনেক এবং নেওয়াজ শরিফকে এই সব সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইমরান খানের সঙ্গে নেওয়াজ শরিফের যে একধরণের বৈরীতার শুরু হয়েছিল , তার অবসান ঘটেছে সম্প্রতি । আহত ইমরানকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন এই সম্ভাব্য প্রধান মন্ত্রী নেওয়াজ শরিফ কিন্তু ইমরান খানের তাহরিকে ইনসাফ দলের সঙ্গে , পাকিস্তান মুসলিম লীগের কি কোন বড় রকমের পার্থক্য নেই ?
এই প্রশ্নের জবাবে ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন বলেন যে তিনি মনে করেন না যে এদের মধ্যে বড় রকমের কোন পার্থক্য রয়েছে। উভয়ই দক্ষিণ পন্থি ইসলামি দল। তবে ইমরান খানকে রাজনীতিতে এমন এক নতুন ব্যক্তি বলে মনে করা হয় যার বিরুদ্ধে দূর্নীতির কোন রেবর্ড নেই। ইমরান খানের যদিও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তবু ও তিনি অনেকগুলো আসন পেয়েছেন যেটি তাঁর দলের জন্যে উল্লেখযোগ্য অর্জন।

নেওয়াজ শরিফ ও তাঁর দলের সঙ্গে বেশ কিছু ইসলামপন্থি দলগুলোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সে জন্যেই প্রশ্ন ওঠে যে তিনি কি তাঁর দেশের আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারছেন যে দেশটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিমাপে এখন ও খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে ?

ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণ মনে করেন যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনের উপরই নেওয়াজ শরিফ জোর দিয়েছেন। এটাই ছিল তাঁর নৈর্বাচনিক অঙ্গিকার। পাকিস্তানের তীব্র বিদ্যুৎ সঙ্কট, সে দেশের ব্যবসার লাটে ওঠার অবস্থা। কোন কোন ব্যবসায়ী ভারতে কিংবা বাংলাদেশে চলে যাচ্ছেন। নেওয়াজ শরিফ মনে করেন যে অর্থনীতির উদারিকরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন। পাকিস্তানের সমাজে উগ্রপন্থিদের উত্থানকে তিনি ভাল ভাবেই লক্ষ্য করেছেন , দেখেছেন্ যে এই উগ্রবাদ পাকিস্তানি সমাজের যেন এক মূলধারায় পরিণত হচ্ছে। । উগ্র ইসলামপন্থিদের বিষয়টি নেওয়াজ শরিফের খুব ভালো জানা আছে, তাদের মোকাবিলা করার ইতিহাস ও আছে তাঁর। সামরিক বাহিনীর কথাটাও তাঁর জানা আছে । তবে দেশের নেতা হিসেবে তিনি কতখানি পরিপক্ক কিংবা এগুলো থেকে তিনি কি শিক্ষা নিয়েছেন সে ব্যাপারে বলা মস্কিল। তবে তাকেঁ এ ভাবে দেখা হচ্ছে যে তিনি হয়ত পাকিস্তানকে স্থিতিশীল করতে সমর্থ হবেন। আসলে পুরো ব্যাপারটাই দু ভাবে দেখা যেতে পারে। মি ব্ল্যাকবার্ন বলেন যে গত দশ কিংবা কুড়ি বছরে দেখা গেছে যে নির্বাচন হলেই পাকিস্তানে এক ধরণের আশার সঞ্চার ঘটে। তবে সেই আশা পূর্ণ হয় কীনা সেটা ভিন্ন ব্যাপার ।

কিন্তু যে প্রশ্নটা বার বার জিজ্ঞেষ করা হচ্ছে যে নেওয়াজ শরিফ আসলে পাকিস্তানি তালিবান , যাদেরকে তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান বলা হচ্ছে , তাদের সঙ্গে কোন রকম সমঝোতায় পৌছুতে পারবেন কী না । কারণ এ ব্যাপারে নেওয়াজ শরিফের একটা প্রতিশ্রুতি রয়েছে , ইমরান খান ও দিয়েছিলেন এ রকম প্রতিশ্রুতি।

ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণ মনে করেন যে ইসলামি দক্ষিণ পন্থিদের সঙ্গে তাদের এক ধরণের যোগাযোগ রয়েছে আর ঐ দক্ষিণ পন্থিদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে , উগ্রপন্থিদের। কিন্তু তাদের বেশ একটু চালাকি করতে হবে। যদিও উগ্রপন্থিদের অনেকেই পাঞ্জাবের লোক , যেটা নেওয়াজ শরিফের নিজের এলাকা , পাকিস্তান মুসলিম লীগ ঐ এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। তবে নেওয়াজ শরিফ যদি তার তাশটা ভাল ভাবে খেলেন তা হলে তিনি সমস্যা সমাধানে সহায়ক একজন নেতার ভূমিকা পালন করতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীদের আফগানিস্তান থেকে চলে আসার পর , আফগানিস্তান ও ভারত দুটি দেশের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক ও উন্নত করতে পারবেন হয়ত। তবে পারভেজ মুশাররফ ঐ রকম একটা ভূমিকা পালন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি।

তবে গণতন্ত্র সত্বেও আমরা তো জানি পাকিস্তানে সেনাবাহিনী প্রাধান্য বিস্তার করে থাকে। সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশই পাকিস্তানি তালিবানের উপর ক্ষুব্ধ কারণ তাদের সঙ্গে লড়াইয়ে সেনাবাহিনীর অনেকেই নিহত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে তালিবানের সঙ্গে কোন রকম চুক্তি সম্পাদন করতে কি নেওয়াজ শরিফ পারবেন ? ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণের উত্তর :
সামরিক বাহিনীর কাছে নেওয়াজ শরিফের ভাবমূর্তিটা বেশ খারাপ। এটা হয়ত এখনও বলার সময় আসেনি যে সেনাবাহিনীর উপর এ ধরনের চুক্তির সিদ্ধান্ত কি ধরণের প্রভাব ফেলবে। একই ধরণের কথা ইমরান খান ও বলছেন । এটা দেখার ব্যাপার যে খাইবার পাখতুন খোয়া অঞ্চলে যেখানে ইমরানের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে , সেখানে তিনিই বা কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এটা এখন দেখার ব্যাপার যে কি ধরণের প্রভাব বিস্তার করে তারা , এবং বিশেষত নেওয়াজ শরিফ , এই ধরণের চুক্তি সম্পাদনে সমর্থ হবেন।
XS
SM
MD
LG