অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশে ইসলামি উগ্রবাদীরা আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে


সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটার কার্ল লেভিনের সভাপতিত্বে ব্যাঙ্কের অব্যবস্থা এবং আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত কংগ্রেসের একটি তদন্ত কমিটি বলছে যে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের পর বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস বন্ধের প্রয়াস হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ব্যাপারে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্রিটেনের লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণ যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এই পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তাঁর লেখা নিবন্ধ : A Tale of Three Cities এ লিখছেন যে লন্ডন , ইসলামাবাদ ও রিয়াদে ইসলামপন্থিদের উগ্রবাদ এখন ও চলতে দেওয়া হচ্ছে । ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণের কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে লন্ডন ,ইসলামাবাদ এবং রিয়াদকে বিশেষ করে চিহ্নিত করছেন কেন । মি ব্ল্যাকবার্ণের জবাব ছিল সম্ভবত লন্ডনে এই সম্পর্কটা বেশ জটিল। যুক্তরাজ্যে এক ধরনের ইসলামি সন্ত্রসবাদী গোষ্ঠি কার্যত তাদের আবাসভূমি করে ফেলেছে , কিছু দাতা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারী সংস্থা ও রয়েছে যারা এ ধরণের গোষ্ঠির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলছেন যে ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর ও যুক্তরাজ্য চট করে তাদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে চা্য়নি কারণ তারা সম্ভবত আরও সাবধানতার সঙ্গে অগ্রসর হতে চলেছিল। ফরাসি গোয়েন্দা বিভাগ তাই লন্ডনকে খানিকটা ব্যঙ্গ করেই লন্ডনিস্তান বলে অভিহিত করতো । অনুমান করি , ব্রিটেন উগ্রপন্থিদের জন্যে একটি অভয় আশ্রয়ে পরিণত হয়। ইসলামাবাদ প্রসঙ্গে ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণ বলেন এটা তো খবরেই রয়েছে যে কি ভাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং আই এস আই , যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কি ভাবে দু রকম খেলে যাচ্ছে। আমরা এটাও জানি যে বেশ উচ্চপর্যায়ের সন্ত্রাসীদের ভারত ও সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে। যেমন ধরুন পাকিস্তান ভিত্তিক উগ্রপন্থি দল লাশকরে তৈয়বাকে কে সরাসরি পরিচালনা ও সহযোগিতা করে থাকে আই এস আই। তবে রিয়াদের ব্যাপারটা অন্য ভাবে দেখতে হবে। সৌদিরা আসলে চরমপন্থিদের কাবু করার চেষ্টা করেছে। তবে সন্ত্রাসীদের অর্থায়নের বিষয়টা এখনও সৌদিরা ঠিক ধরতে পারছে না।
ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণের কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসানাল কমিটির ঐ রিপোর্টে , এইচ এস বি সি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে তালিবান ও আল ক্বায়দার আর্থিক লেন দেন সম্পর্কে ঠিক কি বলা হয়েছে ?
তিনি বলেন যে তারা মূলত এ কথাই বলেছে যে এইএস বি সি ব্যাঙ্ক তাদেরকে কিছু নিয়ম এড়িয়ে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে যার ফলে সন্ত্রাসীদের অর্থযোগানকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের নাগাল পেতে পেরেছে। এইচ এস বিসি আল রাজি ব্যাঙ্কিং করপোরেশনের সঙ্গে কাজ করছে। ঐ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে এরা সৌদি আরবের বিরাট প্রতিষ্ঠান এবং সন্দেহ করা হয় যে তারা ২০০১ থেকে তারা উগ্রপন্থিদের অনেকগুলো দাবিকেই সমর্থন করেছে। আর এখন তারা সন্দেহজনক কিছু দাতা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেন-দেনের সঙ্গেও যুক্ত ।
ক্রিস ব্ল্যাকবার্ণ , তাঁর লেখায় আরও উল্লেখ করেছেন যে ইসলামিক ব্যাঙ্ক বাংলাদেশ লিমিটেড বা
আই.বি.বি এল এর বিরুদ্ধে উগ্রপন্থিদের অর্থের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন তিনি বলছেন যে আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশী সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে এ কথাটা প্রচারিত যে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো ঐ ব্যাঙ্কে আকাউন্ট খুলেছিল। কারণ সেই সময়ে জামায়াতে ইসলামি দলের কিছু সাংসদ ঐ ব্যাঙ্কের পরিচালনা পরিষদে ছিলেন কারণ জেএমবি ‘র সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির ছাত্রশাখা , ছাত্রশিবিরের একটা যোগাযোগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট কমিটির ঐ রিপোর্টে বলা হয় যে আই বি বি এল এবং সোশ্যাল ইসলামি ব্যাঙ্ক ‘এ এমন সব গোষ্ঠির আকাউন্ট রয়েছে যেগুলোর নাম নিষেধাজ্ঞার তলিকায় রয়েছে। এদের একজন অংশীদার ছিলেন সুলায়মান অাবুল আজিজ আল রাজি , যিনি আল ক্বায়দার সন্দেহবাজন অর্থায়নকারী।
জামায়াতে ইসলামি প্রসঙ্গে ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন তাঁর লেখায় বলেছেন যে এটি হচ্ছে একটি উগ্রপন্থি ইসলামি দল তবে সাধারণ ভাবে মনে করা হয় , যা কী না জামায়াত নিজেও দাবি করে থাকে , যে তারা নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক দল তা হলে জামায়াতে ইসলামিকে উগ্রপন্থি বলা কি যুক্তিসঙ্গত ?
ক্রিস বলেন দেখুন এটা তো পরিস্কার ভাবেই বলা হয়েছে। যেমন ধরুন পাকিস্তানে , উগ্রপন্তিদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামিদের যোগোযোগ আছে , তাদের Distant Pakistani Community তে জামায়াতে ইসলামি রয়েছে , রয়েছে লাশকারে তৈয়বাও । এমন কী বাংলাদেশে এই তো মাস দুয়েক আগেও বর্মার কর্তৃপক্ষ ও এই অভিযোগ এনেছিল যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি , রোহিঙ্গাদের উগ্রপন্থি হতে উস্কানি দিচ্ছে। এই অভিযোগ ও রয়েছে যে জামায়াতে মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জে এম বি ‘র অনেক ক্যাডারই হয় জামায়াতে ইসলামির বর্তমান সদস্য , অথবা তারা ইসলামি ছাত্র শিবিরের সদস্য ছিল। সুতরাং অভিযোগ রয়েছে এবং পরিস্থিতিগত এমন প্রমাণ ও আছে যাতে মনে হয় যে জামায়াতে ইসলামি উগ্রপন্থাকে উস্কে দিচ্ছে। কেবল যে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশানের মতো গোস্ঠিগুলোকে অর্থায়ন করে তাই –ই নয় বরঞ্চ তারা মাওলানা আল মওদুদীর চরম আদর্শকে তুলে ধরছে। তা হলে এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের অর্থায়ন এবং অর্থের লেনদেন বন্ধের ক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে ?
ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন বলেন যে এ ব্যাপরে আন্তর্জাতিদক নিয়ম কানুন আছে কিন্তু হয় অবজ্ঞার কারণে এ গুলা কায়কর হয় না । তবে যুক্তরাস্ট্রের সেনেটের সাব কমিটির তদন্তে দেখা গেছে যে এইচ এস বি সি এ ব্যাপারে তাদের নিজেদের নিয়মই মানছে না। Financial Intelligence Unit রয়েছে যা কি না গোয়েন্দা বিভাগ এবং অর্থ বিভাগের সঙ্গে একত্রে কাজ করে , তাতে বোঝা যায় কে কি করছে , কিন্তু অন্তত এইচ এস বি সি ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে সেটা মানা হয়নি।

XS
SM
MD
LG