অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে উগ্রবাদ সম্প্রসারিত হবার আশঙ্কা অমূলক নয়: মেজর জেনারেল মনিরুজ্জামান


ব্রিটেনের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতরা যে উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হচ্ছে এবং তারা যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও তাদের প্রভাব রাখার চেষ্টা করছে এই অভিযোগ সম্পর্কে সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশে সার্বিক ভাবে উগ্রবাদের প্রচার ও প্রসারের আশংকা নিয়ে, বর্তমানে ওয়াশিংটনে অবস্থিত Bangladesh Institute of Peace & Security ‘র চেয়ারম্যান অবসর প্রাপ্ত মেজর জেনারেল মনিরুজ্জামান ভয়েস অফ আমেরিকার আনিস আহমেদেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে বাংলাদেশে বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে যারা উগ্র মতবাদ পোষণ করেন তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের উগ্র মতবাদের পোষণকারীদের যে যোগাযোগ আছে সেটা সত্যি তবে শুধু যে ব্রিটিশ নাগরিকদের সঙ্গেই বাংলাদেশের উগ্র মতবাদীদের যোগাযোগ হচ্ছে তাই নয় ।অন্যান্য দেশের ও যারা এ ধরণের কাজের সঙ্গে জড়িত আছেন , তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে । এটা বিশেষত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এর দায়ভার অন্য কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা তিনি যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন না।

গ্লোবাল টেররিজম এর রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল মনিরুজ্জামান বলেন যে তাঁর জানা মতে যে রকম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকান্ডের একটা সন্ত্রাস বিরোধী ক্ষেত্র স্থাপন করা হয়েছে একই ভাবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা হচ্ছে তবে সেটা আরও সম্প্রসারিত হওয়া উচিৎ।

বাংলাদেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে মনিরুজ্জামান আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা বলেন যে বাংলাদেশে উগ্রমতবাদধারী লোকজনের সংখ্যা আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে । তিনি বলেন যে জনগণের মধ্যেও এ ব্যাপারে একটা প্রচ্ছন্ন সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশের বড় রকমের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এর ফলে সেখানে উগ্র মতাদর্শ বিস্তার লাভ করা খুবই সহজ। প্রসঙ্গত তিনি আইসিসের প্রভাবের কথা ও বলেন এবং বলেন যে বেশ কিছু নামি প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষনার্থীরাও এই প্রভাব থেকে মুক্ত নন।

মেজর জেনারেল মনিরুজ্জামান এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কিছু উপায়ের উপর ও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন প্রথমত আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যেসব কারণে এগুলো হচ্ছে সেখানে কিছু পরিবর্তন আসতে হবে এবং এগুলোর ওপর বাংলাদেশের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে সেগুলো পুরণ করে একটা সুষ্ঠু অংশীদারিত্বমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুললে উগ্রবাদের যে কোন রকম উত্থান রোধ করা সম্ভব। তা ছাড়া তিনি মনে করেন না যে কেবল মাত্র পুলিশি অভিযানের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাস বন্ধ করতে সরকার সফল হচ্ছে। এর সঙ্গে থাকতে হবে Strategic Communication , অর্থাৎ মানুষের মনের ভেতর যে প্রভাব পড়ছে সেখানে কাজ করতে হবে। এবং Counter Terrorism এর জন্য সার্বিক ভাবে জাতীয় কৌশল থাকা দরকার। তা ছাড়া Counter Radicalization এর পদক্ষেপগুলো নিতে হবে।

XS
SM
MD
LG