অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কবিতা সম্পর্কে আমি আশাবাদী : কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন


জাতিসংঘের উদ্যোগে গোটা বিশ্বে আন্তর্জাতিক কবিতা দিবস উদযাপিত হলো একুশে মার্চ । আমাদের এই প্রাত্যহিক , প্রায় প্রাযৌক্তিক পৃথিবীতে কবিতার অপরিহার্যতাই বা কি ? এসব বিষয় নিয়ে , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও কবি ড খোন্দকার আশরাফ হোসেন কথা বলেছেন ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে। তিনি বলেন যে সাহিত্যের অধ্যাপক হওয়া এবং কবিতা লেখার সৃজনশীলতার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। তিনি মনে করেন যে ক্লাসরুমে কবিতা পড়ানোর বিষয়টি ঠিক কবিতার ব্যবচ্ছেদ নয় , কবিতা পাঠ । প্রসঙ্গত তিনি বেশ কয়েকজন কবির কথা উল্লেখ করেন , যারা সৃজনশীলতার সঙ্গে কবিতা নিয়ে বিশ্লেষানত্মক নিবন্ধ লিখেছেন বিস্তর। অতএব তাঁর এই পাঠদানের সঙ্গে তাঁর সৃজনশীল কর্মকান্ডের কোন বিরোধ বা দ্বন্দ্ব নেই বলে খোন্দকার আশরাফ মনে করেন।

তবে কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন মনে করেন যে কোন সৃজনশীল কবির পক্ষে খুব বেশি তত্বজ্ঞান সম্পন্ন না হলেও চলে বরঞ্চ না হওয়াই ভাল । তিনি বলেন যে তত্ব অনেকটাই সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে। কবির কবিতা সমালোচকরা তত্বের কোন কাঠামোতে বিচার করবে সেই বিবেচনা করে কবি যদি কবিতা লেখেন তা হলে এর সৃজনশীলতা ব্যাহত হবে, স্বতঃস্ফুর্ততা নষ্ট হবে।

অধ্যাপক ড খোন্দকার আশরাফ হোসেন আশা প্রকাশ করেন যে তাঁর প্রকাশিত কবিতা বিষয়ক পত্রিকা একবিংশ যেমন অতীতে বহু কবি প্রতিভাকে উজ্জীবিত করেছে , কয়েক প্রজন্মের কবি যেমন এখানে এসে মিলিত হয়েছেন , তেমনি আগামিতেও একবিংশ টিকে থাকলে নতুন কবি-প্রতিভাকে উদ্দীপ্ত করবে।

কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন আরও বলেন, “ কবিতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমি আশাবাদী এবং কবিতা বাদে আর যত কিছু আছে , সব কিছু সম্পর্কে নৈরাশ্যবাদী। তিনি উল্লেখ করেন যে কবি ম্যাথিউ আর্নল্ড বলেছেন , “ যে যখন প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম এবং বিভিন্ন তত্ব যা মানুষকে ধারণ করে রয়েছে বা মানুষ যাদেরকে ধারণ করে আছে , সেগুলো যেদিন ব্যর্থ হয়ে যাবে এমন একটা সময় আসবে , তখন মানুষ কবিতার দিকে ফিরবে”। তিনি বিশ্বাস করেন যে প্রাযৌক্তিক এই সব পরিবর্তন সত্বেও কবিতা ও সঙ্গীত হবে চিরন্তন।

শুনুন সাক্ষাতকারটি
XS
SM
MD
LG