অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিশর পরিস্থিতি নিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজের বিশ্লেষণ

  • আনিস আহমেদ

মিশরে মি মোরসির ক্ষমতাচ্যুতির পর , মুসলিম ব্রাদারহুডে তার সমর্থকরা যে সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে , সব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যে অব্যাহত বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে তাতে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। এর দু দিন আগেই সামরিক বাহিনী প্রতিবাদকারীদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক লোক নিহত হয়। মিশরের এই অনিশ্চিত পরিস্থিতি নিয়েই , যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির , পলিটিক্স এন্ড গভর্ণমেন্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ ভয়েস অফ আমেরিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মিশরে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনের স্বরূপ বর্ণনা করেন । মিশরে সামরিক বাহিনী মদদপুষ্ট সরকার নতুন কিছুই নয় তবে এবারের এই আন্দোলনের পেছনে কাজ করেছে একদিকে যেমন মুসলিম ব্রাদারহুডের সাংগঠনিক শক্তি অপর দিকে তেমনি ২০১১ সালে মিশরে সামরিক বাহিনী সমর্থিত হোসনে মুবারকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিষয়টি।

অধ্যাপক রীয়াজ মনে করেন যে মিশরের বর্তমান অবস্থা বেশ নাজুক এবং তরল । সেখানে গৃহযুদ্ধের আশংকাকেও নাকচ করে দেওয়া যায় না যদি মুসলিম ব্রাদারহুডের আন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য রাস্তায় নেমে আসে সেক্যুল্যারিস্টরা । তবে সেক্যুলারিস্টারাও খুব সুবিধেজনক অবস্থানে নেই সেনাবাহিনীর বাড়াবাড়ির কারণে। মুসলিম ব্রাদারহুড এবং মি মুরসির একচেটিয়া ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টায় প্রতিবাদি সেক্যুলারপন্থিদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে এখন মনে হচ্ছে সেনাবাহিনীই পুরোপুরি ক্ষমতা দখল করছে । তবে জাতিসংঘ , ই্উরোপীয় ইউনিয়ন এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে যে আলোচনার জন্যে চাপ দেওয়া হচ্ছে তাতে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে। অধ্যাপক রীয়াজ মনে করেন যে আগামি দু দিন মিশরের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ এবং এর পর হয়ত বোঝা যাবে যে দেশটি কোনদিকে বাঁক নিচ্ছে।

XS
SM
MD
LG