অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জামায়াত-হেফাজতের রাষ্ট্র ধারণায় বেগম জিয়ার কোন স্থান নেই : সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ


বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মণি, তার নিউ ইয়র্ক সফরকালে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কী মুনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বান কী মুন আবার ও রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় ভূমিকা এবং একে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মনোভাবে কোন রকম পরিবর্তন আসছে কী না , সে নিয়েই নিউ ইয়র্কের প্রবীণ বাঙালি সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ কথা বলেছেন ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের সঙ্গে । তিনি বলেন যে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন, যদিও বিদেশী কোন রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কাম্য নয় মোটেও । তবে জাতিসংঘের প্রয়াস প্রশংসনীয় ।
সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ তাঁর বিশ্লেষণে সরকার ও বিরোধীপক্ষের সাম্প্রতিক নমনীয়তার কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন যে বিরোধী নেত্রী সরকার ফেলে দেবার জন্যে আট চল্লিশ ঘন্টার আলটিমেটাম দেয়া সত্বেও, সরকার হেফাজতে ইসলামের অবরোধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া তিনি উপলব্ধি করেছেন যে সরকার ফেলে দেয়া সহজ কথা নয়। তিনি আরও বলেন যে কৌশলগত কারণে ও, বিশেষত জাতিসংঘের মহাসচিবের উদ্যোগের কথায় তিনি এবং তার দল নমনীয় অবস্থানে এসছে। সৈয়দ মোহাম্মউল্লাহ বলছেন যে বেগম জিয়া বুঝতে পারছেন না যে বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়া যায় কিন্তু বাঘ একটা পর্যায়ে গিয়ে তার সওয়ারকেও খেয়ে ফেলে। তিনি স্মরণ করেন যে জামায়াতে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম যে ধরণের রাষ্ট্রের জন্যে আন্দোলন করছে মহিলাদের কোন ভূমিকা নেই। এ বারে জামায়াত ও হেফাজত মিলে যে উত্থান হচ্ছিল , সে রাষ্ট্রে বেগম জিয়ার কোন স্থান নেই, তার দলের কোন স্থান নেই। তিনি আরও বলেন যে সরকার ও নমনীয় হয়েছে ঐ একই কারণে। প্রথমত তারা জাতিসংঘের এই উদ্যোগকে অগ্রাহ্য করতে পারে না , দ্বিতীয় জামায়াত-হেফাজতের মৌলবাদী ভুমিকা অন্যদের মতো সরকারকে ও উদ্বিগ্ন করেছে এবং তৃতীয়ত সরকার উপলব্ধি করছে যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যে প্রয়োজন সকল পক্ষের অংশগ্রহণ ও বিশ্বাসযোগ্যতা।


XS
SM
MD
LG