অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানের পারমাণবিক চুক্তিঃ একটি বিশেষ প্রতিবেদন


ইরান ও ৬ বিশ্ব শক্তি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

প্রেসিডেণ্ট ওবামা স্পষ্টতই সন্তুষ্ট। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে বেরিয়ে এসে তিনি ঘোষণা দেন গত কয়েক দশক ধরে আমেরিকা যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে তা অর্জন হবে।

প্রেসিডেণ্ট ওবামা বললেন, এই রূপরেখার আওতায় ইরান কোনভাবেই আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসুচীর কঠোর সীমাবদ্ধতা থাকবে। শুধু তাই নয়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসুচীর ব্যাপারে ইতিহাসের সবচেয়ে স্বচ্ছ এবং পুংখানুপুংখ পর্যবেক্ষণে রাজী হয়েছে।

প্রেসিডেণ্ট ওবামা আরো বলেছেন, যখন আপনারা এই বিষয়ে সমালোচনা শুনবেন তাদের শুধু একটা কথাই জিজ্ঞেশ করবেন......সেটা হলো “এই যে সমঝোতা যেখানে যাচাই বাছাই করার সুযোগ রয়েছে..., বিশ্বের বড় বড় শক্তিগুলোর সমর্থন রয়েছে...।যদি তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়, তাহলে কি তা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের চেয়ে খারাপ? এটা কি আমরা গত দুদশক ধরে যা করে আসছি তার চেয়ে খারাপ, যেখানে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কোন ধরনের পুর্নাঙ্গ পর্যবেক্ষণ ছাড়া? ”

শুক্রবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেণ্ট হাসান রুহানী বলেছেন, এই পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে মেনে নেয়া হলো, ইরানের তার নিজের এলাকায় ইউরেনিয়াম আহরণের অধিকার আছে। অবশ্য তা শান্তিপুর্ণ কাজেই ব্যবহার হবে। সেন্ট্রিফিউজ যেমন ঘুরবে, মানুষের জীবন- অর্থনীতিকেও এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী বিশেষ কোন দেশ বা অঞ্চলের বিরুদ্ধে নয়। ইরানের প্রেসিডেণ্ট অঙ্গীকার করেছেন, তাঁরা এই চুক্তির শর্ত মেনে চলবেন, যদি অপর পক্ষও চুক্তির প্রতি সম্মান দেখায়।

এই যে ইরান ও ৬ বিশ্ব শক্তি একটি রূপরেখার ব্যাপারে একমত হয়েছে, তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো,

  • ইরান্ তাদের ২-তৃতীয়াংশ সেন্ট্রিফিউজ হ্রাস করবে।
  • অন্তত আগামী ১৫ বছর ৩দশমিক ৬-৭ শতাংশের চেয়ে বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম আহরণ করবে না।
  • আগামী ১৫ বছর ইউরেনিয়াম আহরণের জন্যে নতুন কোন স্থাপনা তৈরি করবে না।
  • ইরান মাটির নিচে তাদের যে Fordow পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে, তার পরিবর্তন করবে যাতে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজেই পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার হয়।
  • এখন মাত্র ২ থেকে ৩ মাসের মধেই পারমাণবিক বোমা তৈরি করা যায়। এই রূপরেখার আওতায় অন্তত আগামী ১০ বছর ইরানের এই সময়সীমা বাড়িয়ে ১ বছর করা হয়েছে।
  • ইরান তাদের Arak চূল্লীর নতুনভাবে ডিজাইন করবে যাতে তাতে অস্ত্র বানানোর মত প্লুটোনিয়াম তৈরি করা না যায়।
  • I_A_E_A নিয়মিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারবে।
  • ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে, অবশ্য তারা যে অঙ্গীকার করেছে, তা মেনে চলছে কিনা তা যাচাই-বাছাইয়ের পর।

ওদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেন-ইয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, তিনি এবং তাঁর নিরাপত্তা পরিষদ এই সমঝোতার বিরোধিতা করছেন।

মিঃ নেতানিয়াহু তাঁর নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে টেলিফোনে জানিয়েছেন, ইরান ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি।

এক বিবৃতিতে মিঃ নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, এই চুক্তি ইসরাইল, ঐ অঞ্চল এবং সমগ্র বিশ্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ কারণ, এতে ইরানের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, ঐ অঞ্চলে তাদের আগ্রাসন বাড়বে এবং একটি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াবে।

XS
SM
MD
LG