অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরাকের উদ্বাস্তুদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন


ইরাক পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। দেশান্তরণ বিষয় আন্তর্জাতিক সংগঠন IOM-এর রিপোর্ট অনুসারে, ইরাকের সংঘাতের কারণে, গত জানুয়ারী মাস থেকে এ পর্যন্ত ১০ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। জ়েনিভা থেকে পাঠানো লিসা শ্লাইনের প্রতিবেদন থেকে বিস্তারিত শুনুন রোকেয়া হায়দার ও শতরূপা বড়ুয়ার কাছে।

International Organization for Migration তার প্রতিবেদনে বলেছে, জুন থেকে এ পর্যন্ত ৫৪ শতাংশেরও বেশি ইরাকী তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। জুন মাসে ইসলামিক স্টেইট উত্তর ইরাকে আগ্রাসন চালিয়ে এলাকাগুলোর দখল নিতে শুরু করে। এই ইসলামিক স্টেইট-ই একসময় পরিচিত ছিল Islamic State of Iraq and Levant নামে।

ইসলামিক স্টেইটের জঙ্গীরা ইরাকী সরকারের হাত থেকে উত্তর ইরাকের একটা বড় অংশ ছিনিয়ে নিয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শহর মসুলও রয়েছে।

এই যুদ্ধে উদ্বাস্তুর সংখ্যা নাটকীয় রকম বড়। অবশ্য International Organization for Migration এর মুখপাত্র ক্রিস লম বলছেন, এই সংখ্যা বাস্তবের সংখ্যার তুলনায় নিতান্তই নগন্য।

মিঃ লম বলেছেন, এই সংখ্যাগুলো সবসময় পরিবর্তিত হচ্ছে। যারা এখনও এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবার পথে রয়েছে, তাদের এর মধ্যে বিবেচনা করা হয়নি। সেইসঙ্গে যারা পার্বত্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে, তারাও এই গণনার বাইরে আছে।

ইরাকের ইয়াযিদি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ইসলামিক স্টেইটের হামলার ফলে, নিনেভাহ’র সিঞ্জার অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক ইরাকী এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এ সপ্তাহেই প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার ইরাকী কুর্দী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিরিয়া সীমান্তে সিঞ্জার পার্বত্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। যার প্রায় অর্ধেক শিশু।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর এক মুখপাত্র, Elizabeth Byrs বলছেন, ঐ ইয়াযিদি সম্প্রদায়ের মানুষগুলো পাহাড়ে আটকে আছে। তারা কোন নিরাপদ স্থানে যেতে পারছে না, পাচ্ছে না কোন মানবিক সাহায্য।

এই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিনেভাহ’র সিঞ্জার অঞ্চল থেকে যে পরিবারগুলো পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তাদের জরুরি ভিত্তিতে পানি, খাদ্য এবং আশ্রয় প্রয়োজন। আপনারা জানেন সেটি একটি উচ্চ তাপমাত্রার অঞ্চল। ঐ এলাকায় ঐ অবস্থায় টিকে থাকা খুবই কঠিন। সেখানে পানি ও খাদ্য সবই সেখানে দুষ্প্রাপ্য। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী তাদের নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।

মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইয়াযিদিদের অবস্থা ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে সেখানে বিমান থেকে খাবার ও পানি ফেলা শুরু করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বলছে, তারা উত্তর ইরাক, বিশেষ করে সেখানে সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। এই সংখ্যালঘুদের মধ্যে রয়েছে ইয়াযিদি, খৃস্টান ও তুর্কোমেন সম্প্রদায়।

ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া, বৃটেন এবং ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে, হাজার হাজার উদ্বাস্তুকে মানবিক সাহায্য পাঠানোর ব্যাপারে।

মিঃ চাক হেইগেল বললেন, এটি একটি মানবিক বিষয়। সারা বিশ্বে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তিনি মনে করেন, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো জানে, ঐ অঞ্চলের প্রতি তাদের একটি দায়িত্ব আছে।

USAID সোমবার বলেছে, তারা সেখানে দুর্যোগ সহায়তা দল পাঠাচ্ছে যাতে, জীবনরক্ষাকারী প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার মুখপাত্র রাভিনা সামদাসানি বলছেন, তাঁর কার্যালয়ে ঐ অঞ্চল থেকে নিয়মিত আশংকাজনক প্রতিবেদন আসছে। এই প্রতিবেদনগুলোতে মূলত রয়েছে, সাধারণ জনগণের ওপর ইসলামিক স্টেইটের অত্যাচারের খবর।

তিনি বলেছেন, তারা তাদের বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করার জন্যে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের নিয়োগ দিচ্ছে এবং এই কারণে তাঁরা খুবই উদ্বিগ্ন। নারীদের প্রতি যে ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়েও তাঁরা আশংকাজনক রিপোর্ট পাচ্ছেন। বিশেষ করে যেভাবে তাদের যৌন-দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে, ইসলামিক আইনের বিকৃত ব্যাখ্যা করে মেয়েদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে তাঁরা খুবই চিন্তিত।

শামদাসানি বলছেন, জাতি, ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে যদি কোন বেসামরিক সম্প্রদায়কে হামলার শিকার হতে হয়, তা হবে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তিনি বলছেন, ইসলামিক স্টেইটসহ সকল সশস্ত্র দলকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

XS
SM
MD
LG