অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ISIS এর বর্বরতা রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান


heritage

heritage

রাজনীতি অর্থনীতি শিক্ষা সমাজ সংসার সর্বত্রই নারীদেরকে আরো ক্ষমতায়িত করার মাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতার কবল থেকে নারীদের রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানালেন ওয়াপশিংটনে এক অনুষ্ঠানে বক্তারা। ওয়াশিংটনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘Women as victims of terrorism’ শীর্ষক আলোচনায় তারা এ আহবান জানান। সেলিম হোসেন ছিলেন সেখানে। বিস্তারিত শোনা যাক তা কাছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে, ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক ষ্টেট জঙ্গীদের হাতে অপহৃত নারী ও শিশুদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে, অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে হেরিটজে ফাউন্ডেশনের এশিয়া ষ্টাডিজ সেন্টারের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিজ বলছিলেন, এটি এখন চরম এক চরম মানবিক সংকট এবং তা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দীর্ঘমেয়াদী পিরকল্পনা নিতে হবে।

অনুষ্ঠানের মূল দুই বক্তা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রতিনিধি বায়ান সামি আব্দুল রাহমান এবং হাডসন ইনষ্টিটিউটের সেন্টার ফর রিলিজিয়াস ফ্রিডমের পরিচালক নিনা শেয়া বক্তব্য দেয়ার আগে দেখানো হয় ‘এস্কেপিং আইসিস’ শিরোনামে একটি প্রামান্য চলচ্চিত্র। তাতে তুলে ধরা হয়েছে ISIS এর হাতে অপহৃত ইরাকের বিভন্ন অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুদেরকে উদ্ধার প্রচেষ্টাসহ কয়েকজন উদ্ধারকৃত তরুনীর সাক্ষাৎকার। ISIS জঙ্গীদের কাছে বন্দী থাকার সময়কার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছন তারা ওই প্রামান্য চলচ্চিত্রে।

“প্রতিরাতেই ওরা, সারা রাত ধরে আমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতো। একজন নয, অসংখ্য জন, ১০/১২ জন। সেসব রাতের কথা আমাকে পীড়া দেয়। আমি ঘুমাতে পারি না। রাতে ২টা ৩টার দিকে হঠাৎ হঠাৎ ভয়ে জেগে উঠি। ওদের গন্ধ এখনো আমার নাকে টের পাই। দিনে আন্তত ১০ বার দাত ব্রাশ করি”।

বায়ান সামি আব্দুল রাহমান বলেন এই চলচ্চিত্রটি ISIS এর হাতে অপহৃতদের ওপর নৃশংশতার প্রমান। নারী শিশু অপহরণ ছাড়াও তারা নির্বিচারে গনহত্যা চালাচ্ছে। ISIS এর কর্মকান্ড আন্তর্জতিকভাবে গনহত্যা হিসাবে নির্ধারণ করার দাবী জানান তিনি।

“গনহত্যা হিসাবে সকলে তা মেন নেয়াটা, ISIS এর বর্বরতার শিকার হওয়া মানুষদের জন্যে এক ধরেণর সান্তনা। ওদের ওই বর্বরতার বিচার হওয়া উচিৎ, ভুক্তভোগিদের জন্যে পূর্নর্বাসন ও ক্ষতিপূরন দরকার”।

ইরাকের বিভন্ন অঞ্চলের সংখ্যালঘূ ধর্মীয় সম্প্রদায়, বিশেষ করে ইয়াজিদি, খ্রিষ্টান ও শাবাগের ওপর ISIS এর অকথ্য নির্যাতনের কথা তুলে ধরে বায়ান সামি অপহৃতদের উদ্ধার তাদের পুনর্বাসন ও নানা ধরেনর সহযোগিতার জন্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কছে আর্থীক ও মানবিক সাহায্যের আবেদন জানান।

“আমরা আপনাদের সাহায্য চাই, সহযোগিতা চাই এই মানবিক বিপর্যয় কাটাতে। শুধু কুর্দিস্তানের জন্যে নয় যারা ISIS এর অত্যাচারে ভীত সন্ত্রস্ত্র সকলের জন্যে প্রয়োজন এই সাহায্য”।

নিনা শেয়া তার বক্তব্যে বলেন ইয়াজিদি খ্রিষ্টানসহ ইরাকের সংখ্যালঘূ সম্প্রদায়ের মানুষদেরকে অপহরণ করে ইসলাম গ্রহনের কথা বলে অত্যাচার অমানবিবক করা, হত্যা করা, তাদরেক দাসত্বে বাধ্য করাটা- ইসলাম নয়, একোনো ধর্মই নয় সেটি। তিনি ISIS এর কর্মকান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গনহত্যা হিসাবে প্রস্তাব করায় ধনৌ্যবাদ দেন।

এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষপেপ যে কংগ্রেস এটিকে গনহত্যা হিসাবে বিবেচনা করে একটি প্রস্তাব নিচ্ছে”।

ISIS কে রুখতে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর জন্যে তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানান।

প্রশ্নত্তোর পর্বে বিদেশ থেক ISIS এ নিয়োগে তরূনদেরকে আকৃষ্ট করা রুখতে কি করা উচিৎ এ ধরণের প্রশ্ন করেন উপস্থিত দর্শকরা। বাংলাদেশ কিভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে এমন প্রশ্নে বায়ান সামি বলেন।

বাংলাদেশ সম্পর্কে নিশ্চত করে বলতে পারবো না; তবে একথা বলেত পারি যে ISIS সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী গনমাধ্যম এবং পশ্চিমা গনমাধ্যম সিঠক চিত্র তুলে ধরেনি। তারা ISIS এর বীরত্বপূর্ন দিকগুলো তুল ধরেছ যার প্রতি তরুন সমাজ বেশী আকৃষ্ট হয়।এমনকি ISIS এর বর্বরতা তুলে ধরে করা এই প্রামান্যচিত্রটিতেও ISIS এর শক্তিশালী ও বীরত্বপূর্ন চিত্রই বেশী ষ্পষ্ট। তরুনরা এতেই বেশী আকৃষ্ট হয়। শক্তি, অর্থ, নারী এইসব”।

XS
SM
MD
LG