অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কি এই ইসলামিক ষ্টেট এবং কেনো তারা চরমপন্থী কর্মকান্ডে লিপ্ত?


ইরাক জুড়ে চলমান ধর্মীয় গোত্রগত সংঘাত এবং ইসলামি ষ্টেটের খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণাসহ নানা অনিশ্চয়তায় বিভিন্ন স্থানে অসহায় হয়ে পড়েছেন ইরাকীরা। উপরন্তু উত্তর ইরাকের মাউন্ট সিনজারে হাজার হাজার ইরাকী ইসলামী জঙ্গীদের রোষানলে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্যদের প্রতি ইরাকীদের সহায়তায় বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন প্রেডিন্ট বারাক ওবামা। প্রশ্ন হচ্ছে কি এই ইসলামিক ষ্টেট এবং কেনো তারা চরমপন্থী কর্মকান্ডে লিপ্ত?

মধ্যপ্রাচ্যের একটি খন্ড জয় করা ও ইসলামি শাষন কায়েম করার লক্ষ্যে ইসলামিক ষ্টেট দাবীদার দলটি তাদের প্রয়াস অব্যহত রেখেছে।

ইসলাম প্রচারের নামে তাদের সহিংস প্রচারণা ইরাক এবং ইরাকী কুর্দিস্তান সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সন্ত্রাস সহিংসতায় ভিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ ইরাক থেকে পালানোর পথ খুঁজছেন।

খালিফাত বা ইসলামি শাষণ কায়েম করার উদ্দেশ্যে সারা বিশ্ব থেকে চরমপন্থীরা যোগ দিচ্ছে ইসলামিক ষ্টেটে।

পোটেম্যাক ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক তওফিক হামিদের মতে, "ইসলামিক ষ্টেটের সমর্থকদের উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতা ব্যাবহার করে তাদের দর্শন-অর্থাৎ খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা”।

জুন মাসে এই ইসলামিক ষ্টেট ঘোষণা করা হয়। ইরাকী ও সিরিয়ান অঞ্চলে খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেয়া হয়।

এর আগে ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ইসলামিক ষ্টেট পরিচিত ছিল ISIL বা ইসলামিক ষ্টেট অব ইরাক এ্যান্ড দা লেভান্ট নামে। মূলত ২০০৬ সাল থেকে ইরাকে আল কায়েদার কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এরা। ঘোষিত ইসলামিক ষ্টেটের প্রধান আবু বাকর আল বাঘদাদি, ২০১০ সালের মে মাসে ইরাকী আল কায়েদার নেতা নির্বাচিত হন এবং পরে নেতা হন ISIL এর।

২০১৩ সালে আল বাঘদাদি সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ অভিযানে অংশ নেন। সিরিয়ার সুন্নী দল জাভাত আল নুসরার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হয় যার ফলে আল কায়েদা নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি ISIL ও বাঘদাদিকে ত্যাগ করেন। তবে ২০১৪ সালের জুন মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী আল নুসরা ইসলামিক ষ্টেটের অভিযানে অংশ নিতে তাদের যোদ্ধাদের পাঠায়।

গোয়েন্দা সূত্রের হিসাব মতে আল বাঘদাদির সৈন্য সংখ্যা ১৫ হাজার। আল নুসরা যাদেরও রয়েছে সম পরিমাণ সৈন্য, যদি যোগ দেয়, তবে ইসলামিক ষ্টেটের যোদ্ধা হবে ৩০ হাজার।

লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক রাফায়েলো পান্টুচির মতে, “যোদ্ধাদের বেশীর ভাগ ইরাকী-সিরিয়ান। সারা বিশ্ব থেকে মানুষ যোগ দিয়েছে। তবে তাদের অনেকে রয়েছে গাল্ফ অঞ্চলের সৌদী ও কুয়েত থেকে আসা, রয়েছে উত্তর আফ্রিকার তিউনিসিয়া ও লিবিয়ার, রয়েছে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্য এশিয়া, দক্ষিন পূর্ব এশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার লোকও”।

আল কায়েদা ও অপরাপর ইসলামিক জঙ্গী সংগঠনের ন্যায় ইসলামিক ষ্টেটও ইন্টারনেট ব্যাবহার করে, তাদের সংগঠনে যোদ্ধা নিয়োগ, সন্ত্রাস সংগঠনসহ নানা কাজে।

পান্টুচি বলেন, “তাদের মাল্টিমিয়া প্রচারণা খুব সংঘবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত। সামাজিক মাধ্যমেও উচ্চ মানের চমৎকার ভিডিও প্রোডাকশনের মাধ্যমে ষ্পষ্ট ও সহজ বার্তা প্রচারণার মাধ্যমে কাজ করছে তারা”।

সামাজিক মাধ্যমে ইসলামিক ষ্টেট, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের বিক্রম প্রদর্শনের ভিডিও পোষ্ট করে থাকে। ইসলামিক ষ্টেটের গুরুত্বর্পর্ন দর্শন হচ্ছে সহিংসতা। নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা সংঘাত সন্ত্রাস সহিংসতার মন্ত্রে বিশ্বাসী। মসুলসহ বিভিন্ন শহরে ইরাকী সেনাদের অস্ত্র দখল করে তারা এসব সহিংসতা ঘটিয়ে চলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক সার্ফেস টু এয়ার মিসাইল, আর্টিলারি, সামরিক যানসহ রয়েছে বহু কিছু। এই কারনে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি কুর্দি ও ইরাকী সেনাবাহিনির জন্য সামরিক সহায়তা বাড়িয়েছে।

উত্তর ইরাকের বিভিন্ন অংশের দখলে থাকা ইসলামিক ষ্টেট জঙ্গীদের দমাতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরাকী ও কুর্দি যোদ্ধারাও চেষ্টা করে চলছেন তাদেরকে পরাস্ত করে ওইসব অঞ্চল পুনর্দখলে নিতে।

অনেকেই বলছেন শক্তিশালি সেনা অভিযান চালিয়ে ইসলামিক ষ্টেট’কে ধ্বংস করে দিতে। তবে লেখক ও গবেষক কলিন ক্লার্কের মতে, নিশ্চয় এর রাজনৈতিক সমাধান রয়েছে।

তিনি বলেন, “সিরিয়ার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করুন এবং গৃহযুদ্ধ বন্ধ করুন। ইরাকে প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব যা ইরাকী জনগন ঠিক করবেন এবং সকল সংখ্যলঘূর অংশগ্রহনে তা হতে হবে”। আর তারাই এর রাজনৈতিক সমাধান করতে সক্ষম হবে।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নুরী আল মালিকি সরে দাড়িয়েছেন। হায়দার আল আবাদী নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আরো সুন্নী জনগোষ্ঠি সাথে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে দেশের অবস্থা নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসলামিক ষ্টেট শুধু ইরাক নয়, সৌদী আরবের মক্কা মদীনা এবং জর্ডানও অন্যান্য ইসলামী রাষ্ট্রেও তাদের প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

XS
SM
MD
LG