অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আমার মেয়ে বাংলাদেশী, বাংলাদেশের প্রতি আমার রয়েছে অগাধ আবেগ: সেনেটর জন ম্যাককেইন


john mccain

john mccain

যুক্তরাষ্ট্র ভারত ভবিষ্যৎ সম্পর্ক বিষয়ে বক্তব্যদানকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটর জন ম্যাককেইন বলেছেন ঐতিহাসিকভাবে দুদেশের সম্পর্ক ভালো। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র আগমনের পর তা আরো ঘনিষ্ঠ হবে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের কার্নের্গি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস মিলনায়তনে দেয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জন ম্যাককেইন আশা করেন সংঘাতময় বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ দুই গণতন্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা নিশ্চয় সফল হবে। ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে সফরের মাধ্যমে সে আশার ভিত রচিত হবে।

তিনি বলেন ভারতকে সর্বপ্রথম দক্ষিন এশিয়ায় স্থিতি প্রতিষ্টায় কাজ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সন্ত্রাস প্রতিরোধে কাজ করায় অঙ্গীকার করতে হবে, যাতে জঙ্গীবাদ দমন সম্ভব হয়।

জন ম্যাককেইন বলেন, “তিনটি প্রধান দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। প্রথমত দক্ষিন এশিয়ার নিরাপত্তা। এ লক্ষ্যে ভারত যুক্তরাষ্ট্র যৌথ প্রচেষ্টা চালাবে। অবিলম্বে এ লক্ষ্যে আমাদের কাউন্টার টেরোরিজম কর্মকান্ড বাড়াতে হবে”।

সেনেটর ম্যাককেইন বলেন, রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট, যুক্তরাষ্ট্রের উভয় সরকারের আমলেই ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো ছিল। ভবিষ্যতে তা আরো ঘনিষ্ঠ হবে এবং মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা, ইসলামিক ষ্টেট কর্মকান্ডসহ সকল মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড বন্ধ করা এবং বিশ্ব বানিজ্য সম্প্রসারণের প্রয়াস শক্তিশালী হবে বলে তার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, “দু’দেদেশর কুটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মিলিটারী সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হবে। ইসলামিক ষ্টেটকে প্রতিরোধ করতে যৌথ কর্মকান্ডে ভারতকেও অংশ নেয়ার সিগন্যাল দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রদায়িক সংঘাত, হত্যা ও সহিংসতা বন্ধে অনান্য অংশীদারদের সঙ্গে ভারতকেও এগিয়ে আসতে হবে আন্তরিক ভাবে”।

এছাড়া তিনি ইউক্রেনে রুশ দখলদারিত্বের প্রচেষ্টার সমালোচনা করে বলেন তাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপসহ অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার মানষিকতা থাকতে হবে ভারতের। জন ম্যাককেই চীনের সমালোচনা করে বলেন, বিশ্ব বানিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে নেতৃত্ব পর্যায়ে যাওয়ার মানষিকতা নিয়ে এগুচ্ছে চীন, তাদেরকে তা না করে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বও সহযোগিতার মানষিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে; আর চীনকে তা বোঝাতে ভারত পালন করতে পারে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা।

সম্প্রতি ভারতে আল কায়েদার শাখা খোলার ঘোষণা এবং ভারত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে আল কায়েদার কর্মকান্ড পরিচালনার হুমকীতে ভারত সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র কি করতে পারে এমন প্রশ্নে জন ম্যাককেইন বলেন, ভারতের নতুন সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে সন্ত্রাস প্রতিরোধে কাজ করবে।

জন ম্যাককেইন বলেন, কোনো সন্ত্রাসী হুমকীতে কিছুই হবে না। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যাবস্থা নেবে। তিনি বলেন বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে তার বিশেষ অনুভুমি, প্রগাঢ় আবেগ ও ভালবাসা।

তিনি বললেন, "আপনি হয়ত জানেন আমি ও আমার স্ত্রী আমাদের মেয়েকে বাংলাদেশ থেকে দত্তক এনেছি"।

তিনি বলেন, “ভারত নিশ্চয় প্রতিবেশীদের রক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যাবস্থা নেবে এবং তাতে করে বিশ্বে তাদের অবস্থান আরো সুসংহত হবে। এবং বাংলাদেশ; বিশেষ করে জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ও স্পর্শকাতর এই দেশটিকে সর্বাত্মক সহায়তার মনোভাব নিয়ে সে দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।

জন ম্যাককেইন আশা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যকার বৈঠকের মধ্য দিয়ে দু দেশের অব্যহত সম্পর্ক আরো জোরালো হবে এবং বিশ্ব বানিজ্য, সন্ত্রাস প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ সকল বিষয়ে দু দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে।

XS
SM
MD
LG