অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সাংবাদিক কর্মশালা-২; বাড়ছে নবজাতকের মুত্যুর হার, দরকার সচেতনতা


ইউএসএইডের তথ্য অনুসারে প্রতি ঘন্টায় ৯জন নবজাতক মুত্যুবরণ করে। শহরে নবজাতক মৃত্যুর হার গ্রামের তুলনায় অনেকাংশে কম। বিশেষজ্ঞাদের মতে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ মায়েল সচেতনতার অভাব। এছাড়াও ১৮ বছরের নিচে গর্ভধারণ করা এবং পর পর সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে ন্যুনতম ২ বছরের বিরতি প্রদান না করাও অন্যতম কারণ।

নবজাতকদের মধ্যে ৬ শতাংশের মৃত্যু হয় জন্মের প্রথম দুই দিনের মধ্যে। সূর্যের হাসি সহ স্যাটেলাইট ক্লিনিকের নানা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও নারী হাসপাতালের সুযোগ সুবিধা নিতে বিমুখ। শিক্ষার অভাব এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০১০ সালের দ্রুত পরিসংখ্যান অনুসারে ১৫ মিলিয়ন শিশু এবং ৬ মিলিয়ন গর্ভবতী মহিলা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

সরকারি স্বাস্থ্য সেবা সহ এনজিও এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা এ মৃত্যুর হার কমাতে সর্বাধিক চেষ্টা করে যাচ্ছে। সারা দেশে ৩৮৮ টি সূর্যের হাসি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ক্লিনিক গ্রামাঞ্চলে। এছাড়াও সাড়ে দশ হাজার স্যাটেলাইন ক্লিনিক কাজ করছে সারা দেশে।

গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকছেন। ৩১ শতাংশ চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের থেকে। শুধুমাত্র ৫ শতাংশ প্রশব হচ্ছে নিজেদের বাসস্থানে। সব কিছু থাকার পরেও তথ্য আদান প্রদানের দূরত্ব থাকাতে সচেতন হতে পারছে না প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবতী নারী বা তার পরিবার। হাসপাতাল ভীতি থাকার কারণে অনেকে চিকিৎসা প্রদান স্থানে যেতে অস্বীকৃতি জানান। অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা চিকিৎসা অনীহার কারণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

সূর্যের হাসি ক্লিনিক গর্ভধারণকারী মহিলাদের গর্ভজনিত সেবা প্রদান করে থাকেন। এর মধ্যে গর্ভবতীদের পরামর্শ দেয়া, কার্ড ব্যবহার করা, বিপদকালীন সময়ের জন্য অর্থ সঞ্চয় সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গুলো নিয়ে থাকেন। গরীব রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে এই ক্লিনিকগুলো।

এছাড়াও আপনজন সার্ভিসের মাধ্যমে ক্ষুদে বার্তায় গর্ভবতী নারী তার স্বামী ও পরিবারকে তথ্য প্রদান করা ও মোবাইল ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সব পদক্ষেপ নেয়ার পরও শুধু শিক্ষার অভাবে গর্ভবতীয় নারীরা ঝুঁকিমুক্ত হতে পারছেন না। এতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে নবজাতক শিশু। এ মৃত্যুর হার রোধ করতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে জন্মকালীন তথ্য প্রদান করার পরামর্শ দেন শিক্ষাবিদরা। গর্ভবতী মা এবং নবজাতক সম্পর্কে প্রথম থেকেই তথ্য প্রদান করে সচেতন পরিবার গড়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

রিপোর্ট: প্রিতম দাশ(যুগান্তর), আজহার মাহমুদ(ইত্তেফাক), শৈবাল আচার্য্য(সমকাল), এনামুল হক কাশেমী(নতুন বাংলাদেশ)

XS
SM
MD
LG