অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আজ ১১ই জৈষ্ঠ্য বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিবস। দেশে বিদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে তাঁর ১শ ১৫তম জন্মবার্ষিকী।

সাহিত্য ও ব্যক্তি জীবনে নজরুল বহুযুদ্ধ করেছেন। সেই যুদ্ধ কখনও সামাজিক ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কখনও সম্প্রদায় ও প্রতিবেশি সম্প্রদায়ের সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে বা সামন্ত ও পশ্চাতপদ মানসিকতার বিরুদ্ধে, আবার কখনও ঔপ্নিবেশিকতার বিরুদ্ধে।

নজরুল সম্পর্কে লিখতে গিয়ে মোজাফফর আহমেদ লিখেছেন, “আমাদের ভাষায় জোর নেই, সংগ্রামশীলতা নেই। এই ধারণা আমাদের মধ্যে বদ্ধমূল ছিল বলেই আমরা শ্লোগান দিতাম হিন্দুস্তানীদের। নজরুল ইসলামের অভ্যুদয়ের পর আমরা বুঝেছি যে, বাংলা ভাষাও জোরালো, সংগ্রামশীল ও অসীম শক্তিশালিনী”।
তারই প্রমাণ নজরুলে অমর সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’।

নজরুলের একটি বড় পরিচয় দ্রোহের কবি হলেও, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা অঙ্গনে তাঁর ছিল সাবলীল পদচারণা।
নজরুলের প্রতিভার একটা বিশেষ দিক হলো, রবীন্দ্রনাথের মত তিনিও ভিন্ন সংস্কৃতি থেকে মণিমুক্তো আহরণ করেছেন উদারভাবে। যা দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন, বাংলা ভাষা, বাংলা সঙ্গীত, বাংলা সংস্কৃতিকে। নজরুলের আগে, বাংলা গানে গজলকে যুক্ত করার চেষ্টায় সেভাবে কেউ সফল হননি। কিন্তু নজরুল অনায়াস দক্ষতায় উর্দু, হিন্দী শব্দ ব্যবহার করে, একদিকে যেমন বাংলা ভাষাকে করেছেন সমৃদ্ধ, তেমনি, বাংলা গজলকেও দিয়েছেন এক নতুন মাত্রা।

দ্রোহ ও প্রেম, কঠোর কোমলে অম্লান কাজী নজরুল। কবিকে শুভ জন্মদিন।
XS
SM
MD
LG