অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান পেলেন রবার্ট এফ কেনেডী পুরস্কার


বাংলাদেশে মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করার স্বীকৃতি হিসাবে সম্মানজনক রবার্ট এফ কেনেডী পুরস্কার পেলেন অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান। ওয়াশিংটনস্থ রবার্ট এফ কেনেডী সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস কতৃক দেয়া পুরস্কারটি ২০শে নভেম্বর ক্যাপিটল হিলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যম পুরস্কারটি দেয়া হয়। আদিলুর রহমান পুরস্কার নেন মিসেস রবার্ট এফ কেনেডীর কাছ থেকে।

অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান খান প্রথম বাংলাদেশী মানবাধিকার কর্মী যিনি এই পুরস্কার পেলেন। বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরার মত সাহসী কাজ করার স্বীকৃতি মিলল এই পুরস্কারের মাধ্যমে।

সমগ্র বাংলাদেশে মানবাধিকার কর্মীদের নেটওয়ার্ক তৈরীর মাধ্যমে নির্যাতন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ, গুম, আইন বহির্ভূত হত্যাকান্ড, সীমান্তে হত্যা, নরীর ওপর সহিংসতা, ভোটারের অধিকার হরণ, আইন রক্ষাকারী বাহিনীর অনধিকার চর্চাসহ মানবাধিকার লংঘনের নানা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তা বন্ধের চেষ্টা করে আসছে অধিকার। আদিলুর রহমান বললেন বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষায় অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক মহলে জনমত সৃষ্টি করা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছেন তারা।

যুক্তরাস্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও প্রখ্যাত ব্যাত্বিদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারক প্যানেল ৭০ জনমনোনীত মানবাধিকার কর্মীর মধ্য হতে আদিলুর রহমানকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেন।

পুরস্কারটির জন্য তাকেঁ নির্বাচিত করায় আদিলুর রহমান আরএফকে সেন্টারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “যে মানবাধিকার কর্মীরা হুমকীর মুখে রয়েছেন তাদের নিরলস পরিশ্ররেম রস্বীকৃতি এই পুরস্কার”।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ, সমতা, সামাজিক সুবিচার ও একটি গনতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন, তা এখনো অপূর্ন রয়ে গেছে। সাধারন মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে; নিপীড়নের শিকার হচ্ছে মানবাধিকার কর্মীরা।

তিনি আশা করেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এই পুরস্কার ভুমিকা রাখবে এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, সামাজিক সুবিচার ও গনতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামকে অব্যহত রাখায়, তা উৎসাহ ও শক্তি যোগাবে।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় যারা কাজ করছেন তাদের জন্য ১৯৮৪ সালে প্রবর্তন করা হয় রবার্ট এফ কেনেডী মানবাধিকার পুরস্কার। সাম্প্রতিক সময়ে এ পুরস্কার যাঁরা পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে ২০১৩ সালে এ পুরস্কার পান মিশরের রাজিয়া ওমরান, ২০১২ সালে যুক্তরাস্ট্রের লিব্রাদাপাস, ২০১১ সালে উগান্ডার ফ্রান্ক মুগিশা এবং ২০১০ সালে মেক্সিকোর আবেল বারেরা এননান্দেস।

XS
SM
MD
LG