অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জীবনে সাফল্যের জন্য পরিশ্রম, অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও সততার প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সাফল্যের শীর্ষে উঠেও, অনেকে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। আরও পাওয়ার আকাঙ্খা, তাদের ভুল পথে নিয়ে যায় আর সেটাই তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ।
আজকের যুবসংবাদে খেলার জগতে এক নামী তারকার উত্থান ও পতনের কথা শোনাচ্ছেন রোকেয়া হায়দার।

সাইকেল চালনার সেরা পুরস্কার ট্যুর দ্য ফ্রান্সের পথে পথে ৭ বারের বিজয়ী আমেরিকার ল্যান্স আর্মস্ট্রং। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার সাফল্যের শুরুতেই তার পৃথিবীটা যেন পাল্টে গেল। আর্মস্ট্রং ক্যান্সারে আক্রান্ত। চারিদিকে সেই খবর ছড়িয়ে পড়লো। ক্যান্সার রোগের সঙ্গে তার যুদ্ধ – চিকিত্সা – পরবর্তীতে আবার প্রতিযোগিতার পথে ফিরে যাওয়া, আর্মস্ট্রং প্রতিষ্ঠা করলেন তার ক্যান্সার ফাউণ্ডেশেন সবই দারুণ খবর। ২০০৮ সালে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ কর্মসুচীতে যোগ দিয়ে দেশে ক্যান্সার প্রতিরোধ কর্মসুচীর কথা বলা, সাহায্য করার, তহবিল সংগ্রহের কাজে যোগ দেওয়া সবই সাড়া জাগানো খবর – ল্যান্স বলেন ‘প্রথমতঃ এ হচ্ছে এক বিশেষ সুযোগ বিশ্বব্যাপী ঘুরে ঘুরে সবার কাছে ক্যান্সার সম্পর্কে খবর জানানো। দ্বিতীয়তঃ – সাইকেল চালিয়ে সবার কাছে এই যে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এটা আমার জন্য খুবই ভাল এক কর্মসুচী মনে হয়। ৩৭ বছর বয়সে আমি সাইকেল চালিয়ে সবার কাছে গিয়ে এ কথা বলতে পারছি। আমরা প্রশিক্ষণ অব্যাহত রেখে সাইকেল চালিয়ে এই ধারা বজায় রাখতে পারছি সেটা খুবই ভাল এক উদ্যোগ’।
ল্যান্স আর্মস্ট্রং

ল্যান্স আর্মস্ট্রং

তবুও ল্যান্স আর্মস্ট্রং এখন আমেরিকার মাদক বিরোধী সংস্থার নজর থেকে পড়ে গেছেন। তাকে চিরতরে প্রতিযোগিতা অঙ্গন থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তার সব পুরস্কার শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ইউ এস এ ডি এস তার সর্বশেষ সিদ্ধান্তে জানিয়েছে ‘আমর্স্ট্রং পেশাদার খেলায় সুনিপুনভাবে, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে, আধুনিক ও সফল এক মাদক কর্মসুচী কার্যকর করেন। সংস্থা তার ১ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগ সংক্রান্ত বর্ণনায় বলেছে, আর্মস্ট্রং দীর্ঘকাল যাবত নিজেই নয়, ডাক বিভাগে তার গোটা দলকে নিষিদ্ধ শক্তিদায়ক ওষুধ সেবনে বাধ্য করেছেন এবং বারবার সবাইকে ভয় দেখিয়ে সেই খবর প্রকাশে নিষেধ করেছেন।
অথচ এই সফল মানুষটিই ছিলেন সবার আদর্শ।
‘আজ প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টনের সঙ্গে আমরা বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার রোগ সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার কর্মসুচী ঘোষণা করবো’।
নামী দামী ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্যে তার আর্মস্ট্রং ফাউণ্ডেশন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তিনি প্যারিসে ট্যুর দ্য ফ্রান্সের সেই মঞ্চ থেকেই তার নতুন কর্মসুচী ঘোষণা করার কথা জানালেন।
আর্মস্ট্রং জানান অনেক দেশেই একটা ভুল ধারণা যে ক্যান্সার সংক্রমক রোগ –
তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করে ক্যান্সার ছোঁয়াচে রোগ। দেশে দেশে ঘুরে আমরা অন্য সমাজকে এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে চাই। অন্য সরকারের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে এই কর্মসুচীর কাজ সম্প্রসারিত করতে চাই’।
এই ছিলেন দক্ষ এক ক্রীড়াবিদ অত্যন্ত সফল তারকা আমেরিকার ল্যান্স আর্মস্ট্রং। তাই ইউ এস এ ডি এর প্রধান কর্মকর্তা ট্রাভিস টাইগার্ট বলেছেন, অন্য সাইকেল চালক, তার সহযোগীরা যে বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখেছেন তার বিরুদ্ধে সব কথা প্রকাশ করতে পেরেছেন, সেটা এক বিরাট ব্যাপার’। তাদের কাছে মনে হয় এ যেন স্বপ্নের মত, সব যদি সত্যি না হতো ভাল হত।
আর্মস্ট্রং শক্তি বাড়ানোর জন্য তার নিজের শরীর থেকে রক্ত নিয়ে জমা রাখতেন তারপর প্রতিযোগিতার সময় নতুন করে সেই রক্ত তার শরীরে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন। সবসময় যে ধরা পড়ে গেছেন তা নয়। তার দলের এক প্রতিযোগী জানিয়েছেন ল্যান্স ডাক্তারের ঘরে গিযে দরজা বন্ধ করেছেন তারপর ৪৫ মিনিট পর বেরিয়ে এসেছেন অর্থাত্ রক্ত দিতে যে সময়টুকু লাগে। এইভাবে একের পর এক বিভিন্ন জনের বয়ান শোনার পর এক মহানায়ককে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে, ইউ এস এ ডি একে যথেষ্ট ভাবনা চিন্তা, বিবেচনা করতে হয়েছে। কিন্তু কেন এমন হলো? সেটাই এখন সবার মনে প্রশ্ন। যুবসমাজের কাছে এই জীবন কথা শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। যত বড়ই হোন না কেন, নিজেকে সাফল্যের শীর্ষে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কখনও ভুল পথে যাওয়া উচিত নয়।
XS
SM
MD
LG