অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে দুজন বিদেশী নাগরিককে হত্যা ও অন্যান্য বিষয়ে বিশ্লেষক লিসা কার্টিজের সাক্ষাৎকার

  • রোকেয়া হাযদার

Bangladeshi police and detectives stand by the site where Italian citizen Cesare Tavella was gunned down by unidentified assailants in Dhaka, Sept. 29, 2015.

Bangladeshi police and detectives stand by the site where Italian citizen Cesare Tavella was gunned down by unidentified assailants in Dhaka, Sept. 29, 2015.

ওয়াশিংটনে গবেষণা সংস্থা হেরিটেজ ফাউণ্ডেশনের সিনিয়ার রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিজ আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে - বাংলাদেশে সম্প্রতি দুজন বিদেশী নাগরিককে গুলী করে হত্যা, তার আগে ব্লগারদের হত্যাকাণ্ড, এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

টেলিফোনে তার সঙ্গে কথা বলেন রোকেয়া হায়দার।

বাংলাদেশে চলতি বছরের শুরুতে এবং গত বছর ব্লগার – লেখকদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। গত সপ্তাহেই দেশের দুই প্রান্তে দুজন বিদেশী নাগরিক – ঢাকায় একজন ইটালিয়ান ও রংপুরে একজন জাপানীকে উগ্রপন্থীরা গুলী করে মেরে ফেলেছে। এবং আইসিস এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবী করছে। বর্তমান ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে তার বিশ্লেষণ কি? এই প্রশ্নের জবাবে লিসা কার্টিজ বললেন ‘সে দেশে দারুণ একটা হুমকী দানা বেঁধে উঠছে। এবং আমি মনে করি যে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে বর্তমানে যে ধরণের মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে সেটাই এর মুল কারণ। এবং উগ্রবাদীরা সেই পরিস্থিতির, রাজনৈতিক অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে’।

আইসিসের কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সে বিষয়ে তার ধারণা কি?

তিনি বলেন,‘আমি মনে করি এই মূহুর্তে সঠিকভাবে এটা বলা সম্ভব নয় যে আইসিসএর কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কি নেই। স্থানীয় মানুষজন আইসিসের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করছে কিনা, অথবা আইসিস সে দেশে কোনভাবে কাজ শুরু করেছে কিনা তাও বলা যায়না। তবে এই আশংকা রয়েছে যে বাংলাদেশে উগ্রবাদ বেড়ে চলেছে এবং সরকারকে অবশ্যই তার মোকেবলা করতে হবে। এইসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সাহায্য নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই তদন্ত কাজে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে, এবং এক্ষেত্রে বাইরের একটা যোগাযোগ থাকতে পারে, তাই যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিত’।

শুধু কি রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলেই উগ্রবাদ বেড়ে চলেছে, নাকি বাইরের কোন প্রভাব এর কারণ? হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়ার রিসার্চ ফেলো কার্টিজের বক্তব্য, ‘আমি মনে করি ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়দা এবং আইসিস উভয়েই হয়তো শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি রক্ষণশীলদের ক্ষোভের মধ্যে একটা সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। জামাতে ইসলামীর মত দলের ক্ষুব্ধ মনোভাব তাদের মত বাইরের দলকে বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভবতঃ একটা সুযোগ করে দিচ্ছে। এই হামলা দক্ষিণ এশিয়ায় আল কায়দা ও আইসিসের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতারও প্রতিফলন হতে পারে’।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, উগ্রবাদ দমনে যে কোন যৌথ প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে। তিনি সহিংস উগ্রবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে ইসলামিক স্টেটকে প্রতিহাত করার লক্ষ্যে তাদের কাছে সকল ব্যবস্থা রয়েছে। লিসা কার্টিজ মনে করেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানের এই হামলা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। বাংলাদেশ অবশ্যই সেই ২০০৫ সালে জামিয়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশের জেএমবির মত উগ্রবাদী গ্রুপ যারা একই সঙ্গে পরপর কয়েকশো বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়, তার মোকাবেলা করতে এ ধরণের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। তবে আমি মনে করি কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া পূর্ণ তদন্ত করতে হবে। কারা এর সঙ্গে জড়িত। কারা তাদের উৎসাহ যোগাচ্ছে। কার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। কারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। সুষ্ঠুভাবে সবকিছু অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ জানতে পারবে কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, কি করতে হবে’।

লিসা কার্টিজ আরও বলেন, ‘আমি অবশ্যই উল্লেখ করবো যে বাংলাদেশে একটি মধ্যপন্থী মুসলিম গনতান্ত্রিক দেশ। অন্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তুলনায়, বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে অধিক সংখ্যায় মহিলারা যোগ দিচ্ছেন। তাই আমি অবশ্যই মনে করি যে বাংলাদেশ তার চলতি সমস্যা, হুমকী কাটিয়ে উঠতে পারবে, তার সেই সঙ্গতি আছে। তবে সরকারকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত রেখে অনুসন্ধান কাজ চালাতে হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে এইসব হামলার কারণ তদন্ত করে দেখতে হবে’।

XS
SM
MD
LG