অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

শরীফ-উল-হক
ঢাকা রিপোর্টিং সেন্টার
সহযোগিতায়- ইউএসএইড এবং ভয়েস অফ আমেরিকা

ছোট্ট কোমল মনে ইচ্ছের ডাকাডাকি। এ যেন ঘাসফুলের জন্যে অথবা একটি টলমল শিশির বিন্দুর জন্যে নেচে ওঠা । হাটি হাটি পা করে এই শিশুটিকেই পৃথিবীকে চেনার উপায় করে দেয় শিক্ষা। মায়ের কাছে হাতেখড়ি’র পর স্কুলের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক যাত্রা।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রথম পর্বটি শুরু হয় শিশু শ্রেণী থেকে। তারপর একে একে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা। ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ৬টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সচেতনতা, শিশু বান্ধব শ্রেনীকক্ষ, এবং শিক্ষা উপকরণের অভাব এবং দারিদ্রসহ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণে প্রতিটি ধাপে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ইউএসএইড বাংলাদেশ এর এডুকেশন টিম লিডার মোঃ শহিদুল ইসলাম বললেন- অধিকাংশ শিশুরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে কারণ পাঠ্যত্রুমের বইগুলো তাদের বুঝতে অসুবিধা হয় এবং শিশুমনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন পরিবেশ তারা স্কুলে গিয়ে পায় না।

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে সব শিশুর জন্য করা হয়েছে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক করা হয়েছে শিক্ষাকে। এত কিছুর পরও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের ঘাটতি এবং বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের বিস্তর ফারাকে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ বাস্তবায়িত হবে কিনা সেটা ভাবনার বিষয়। মোঃ শহিদুল ইসলাম আরো বললেন- “ইউএসএআইডি শিশু শিক্ষা প্রসারে কিছু প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের সাথে যৌথভাবে হাতে নিয়েছে”।

মজার তথ্য হচ্ছে, এখনও দেশের ১৬ হাজার ১৪২টি গ্রামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস’। দিবস’টি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বর্তমানের সাক্ষরতার হারকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করার। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি পালন করেছে।
একজন শিক্ষিত মানুষই পারে সমাজের কুসংস্কার, গোঁড়ামি দূর করে নতুন পথের সন্ধান দিতে। আসুন আমরা সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলি।

XS
SM
MD
LG