অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বর্ণবৈষম্যবাদ বিরোধী প্রতীক নেলসন ম্যান্ডেলাকে শেষ বিদায় জানাতে সারা বিশ্ব থেকে দক্ষিন আফ্রিকায় সমবেত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রবল দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়া উপেক্ষা করে জোহানেসবার্গের ফুটবল ষ্টেডিয়াম বিশ্বের নানা প্রান্তের রাস্ট্রনায়ক, সেলিব্রিটিসহ বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের উপস্থিতিতে ছিল মুখর। তারা শেষ শ্রদ্ধা জানান সেই মহানায়কের, যাঁকে স্থাণীয়রা ‘টাটা’ বলে অতি সহজ সম্বোধনে অভ্যস্থ। ভয়েস অব আমেরিকার রিপোর্ট থেকে বিস্তারিত জানাচ্ছেন সেলিম হোসেন।

শীত বা বৃষ্টি’র পরোয়া নেই। শ্রেনী পেশা জাতি ধর্ম বা বর্ণের বিভাজন নেই। রাজা প্রজার ভেদাভেদ নেই। সব ভুলে ৬০ সহস্রাধিক দক্ষিন আফ্রিকান আর বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ একত্রিত হয়েছেন জোহানেসবার্গের ফুটবল স্টেডিয়ামে; নেলসন ম্যান্ডেলাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। ফুসফুসের ক্ষতের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ শেষে পরাজিত হয়ে ৯৫ বছর বয়সে চলে যান দক্ষিন আফ্রিকার সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

দক্ষিন আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্য দূর করার সংগ্রামে তিনি জীবনের ২৭টি বছর কাটান কারাগারে। সংগ্রামে জয়ী ম্যান্ডেলা কারামুক্ত হয়ে ১৯৯৪ সালে নির্বাচিত হন দক্ষিন আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট।

কিংবদন্তী এই নেতা নেলমন ম্যান্ডেলার সম্মানে এক হয়ে গেছে বিশ্ব রাজনীতি। জোহানেসবার্গে ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহুর্তগুলোর একটি হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ কতৃক ম্যান্ডেলাকে জমকালো অভিনন্দন প্রদান। জোহানেসবার্গের সোয়েতো এলাকায় সেই ফুটবল ষ্টেডিয়ামই ছিল গণমানুষের সম্মুখে শেষবারের মত তার সবচেয়ে বড় উপস্থিতি। আর সেই একই ষ্টেডিয়ামে, প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ, বিশ্বের প্রায় একশত দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান এবং যুক্তরাস্ট্রের তিনজন সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার প্রতি শেষ শ্রদ্ধ জানাতে আসলেন।

সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামা বললেন, ম্যান্ডেলাই তার জীবনের আদর্শ: “৩০ বছর আগে যখন ছাত্র ছিলাম আমি ম্যান্ডেলা আর তার সংগ্রামের কথা জানলাম। আমি অনুপ্রানিত হই। তা আমাকে নিজের ও অন্যের প্রতি আমার দায়িত্ব বোধ জাগিয়ে দেয় এবং এক অবিশ্বাস্য গন্তব্যের দিকে ধাবিত করে যা আজ এখানে উপস্থিত”।

ওবামা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন ফার্ষ্ট লেডি মিশেল ওবামা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও জিমি কার্টার।

শেষ কৃত্যানুষ্ঠানে আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। ম্যান্ডলার চলে যাওয়াকে এক অপুরনীয় ক্ষতি উল্লেখ করে তিনি বলেন: “দক্ষিন আফ্রিকা এক মহানায়ককে হারিয়েছে। আপনারা আপনাদের পিতাকে হারিয়েছেন। বিশ্ব হারিয়েছে এক অকৃত্রিম বন্ধুকে, এক বিজ্ঞ পরামর্শককে। নেলসন ম্যান্ডেলা আমাদের সময়কার শ্রেষ্ঠ নেতার চেয়ে বেশি কিছু ছিলেন, ছিলেন শ্রেষ্ঠতম শিক্ষকও”।

ম্যান্ডেলার স্মরণ অনুষ্ঠানে কিছু কিছু দক্ষিন আফ্রিকান বর্তমান প্রেসিডেন্ট জেকব জুমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্লোগান দিলেও তিনি তার বক্তব্যে বলেন আমরা মাদিবাকে জাতির পিতা বলি শুধুমাত্র এদেশের রাজনীতিকে বর্নবৈষম্যমুক্ত করার জন্য নয়, বরং দক্ষিন আফ্রিকাকে আমাদের স্বপ্নের দেশ হিসাবে গড়ার ভিত্তি নির্মানের জন্য, যেখানে আমরা আজ এক ঐক্যবদ্ধ জাতি, যেখানে ধর্ম বর্ন জাতি ও লিঙ্গ বৈষম্য থাকবে না, থাকবে গণতন্ত্র আর সমৃদ্ধির অঙ্গীকার।

ম্যান্ডেলার মৃত্যু কাঁদিয়ে চলেছে আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ, অষ্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের দেশে দেশে ঘরে ঘরে সকলকে।

অন্যান্যের, মধ্যে ছিলেন ভারতের রস্ট্রপতি প্রনব মুখপাধ্যায়, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট এ্যাডভোকেট আ: হামিদসহ বৃটেন, ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া, চীন, সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতৃবৃন্দ।

ম্যান্ডেলার মরদেহ তিনদিন রাজধানী প্রিটোরিয়ায় রাখা হবে। পরে পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতায় তার নিজ গ্রাম কুনুতে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। এছাড়া প্রত্যেকটি প্রদেশে পৃথক মেমোরিয়াল সার্ভিস অনুষ্ঠিত হবে।
XS
SM
MD
LG