অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ক্রীড়া জগতে নেলসান ম্যাণ্ডেলার অবদান


mandela sports

mandela sports

অনেকে হয়তো জানেন না, বা ভাবতেই পারেন না যে নিজের দেশের এবং আন্তর্জাতিক খেলাধুলার ক্ষেত্রে নেলসান ম্যাণ্ডেলার কি বিরাট ভুমিকা ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুর শাসন ব্যবস্থা শেষ হওয়ার পর থেকে তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রমে, সুচিন্তিত পরিকল্পনায় তিনি কি অসাধ্য সাধন করেছেন।
কিশোর বয়স থেকেই সমাজ সচেতন মানুষটি তাঁর পারিপার্শিকতা সম্বন্ধে অনুসন্ধিত্সু দৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহী ম্যাণ্ডেলা মুষ্টিযুদ্ধে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা শুরু করেন। পরবর্তীতে সেই কেলার আগ্রহই তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সমস্যা মেটাতে সাহায্য করেছে।
১৯৬০ সালে নিরাপত্তা রক্ষীরা কৃষ্ণাঙ্গ জনপদ শার্পভিলে ৬৭জন প্রতিবাদকারীকে গুলী করে হত্যা করে। তার জবাবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি দক্ষিণ আফ্রিকার অলিম্পিকে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করলো। তারই চার বছর পরে, ইংল্যাণ্ডের নামী ক্রিকেট ক্লাব এমসিসি, দক্ষিণ আফ্রিকার এক মিশ্রবর্ণের ক্রিকেট খেলোয়াড় বাসিল দ্য অলিভিয়েরাকে আমন্ত্রণ জানালো খেলার জন্য কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় মিশ্রবর্ণের কোন খেলোয়াড়ের ঠাঁই ছিল না। তখনকার প্রধানমন্ত্রী জন ভস্টার বৈষম্যবাদের জোর সমর্থক এবং সেই ক্রিকেট সফরও বাতিল হয়ে গেল।
বর্ণবৈষম্যবিরোধী প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে লক্ষ্য করে তাদের অভিযান শুরু করলো। ১০৭০ সালের রাগবী ম্যাচ এমনি এক উদাহরণ। বড় বড় সব দল খেলার মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে একঘরে করলো। নেলসান ম্যাণ্ডেলা সেই বয়কট যে কতখানি শক্তিশালী তার উল্লেখ করে বলেছিলেন – ‘খেলাধুলার ক্ষেত্রে সে যেন সবাকিছু পঙ্গু করে দিল। কেউই কিছু করতে পারতো না। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য খেলার মাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা, বিরাট আঘাত ছি’।
তবে বর্ণবৈষম্যবাদের অবসান ২১ বছর পর ক্রিকেটের মাঠে ফিরিয়ে নিয়ে এলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ম্যাণ্ডেলার দেশ ফিরে গেল খেলার বিভিন্ন অঙ্গনে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন এক ক্রিকেট অধিনায়ক ডঃ আলী বাকের ১৯৬৯ সালে ক্যাপ্টেন ছিলেন, তিনি বলেন –‘দক্ষিণ আফ্রিকায়, ক্রিকেট আর রাগবী ছিল শ্বেতাঙ্গদের প্রাধান্যের প্রতীক। কিন্তু নেলসান ম্যাণ্ডেলা সেই দুটি খেলাকেই লক্ষ্য করে গড়ে তুললেন তার সংহতির অভিযান’। তিনি বলেন, ম্যাণ্ডেলা জানতেন তার দেশের মানুষের কাছে খেলাধুলা কত প্রিয়, কত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সেই অনুভুতিকেই কাজে লাগিয়েছেন। কারামুক্তির পর থেকে তিনি সেই খেলার জগতের দুয়ার উন্মুক্ত করে একের পর এক কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যান। ১৯৯৫ সালে নিজের দেশের মাঠেই দক্ষিণ আফ্রিকা নিউজিল্যহ্নডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে। তারপর মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর মত বিশ্বের সেরা কয়েকজন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ম্যাণ্ডেলার দেশে, বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ হিসেবে ফিফার অনুমোদন লাভে সাহায্য করেন। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা হলো নেলসান ম্যাণ্ডেলার দেশে। আমরা জানি পারিবারিক দুঃখ – গাড়ী দূর্ঘটনায় নাতনীর মৃত্যুর শোক সহ্য করে, তিনি হাসিমুখে এসে দাঁড়িয়েছিলেন জোহানেসবার্গ ফুটবল স্টেডিয়ামে। তাঁর হাসিতে উজ্জ্বল বিশ্বকাপের মাঠ, সেই হাসিতে খেলার ভুবন ভরিয়ে রেখে গেলেন ‘মাদিবা’!
XS
SM
MD
LG