অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অলিম্পিকের মশাল নিভেছে, কোলাহল স্তিমিত হয়েছে। কিন্তু অনেকের মনেই অলিম্পিকের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে ভাবনা তারা এবার কে কি করবেন? কার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? আর সাঁতারে যার সাফল্যের তুলনা নেই, সেই মাইকেল ফেল্পসের ভবিষ্যত নিয়েও অনেকেই ভাবছেন।
আসুন রোকেয়া হায়দারের কাছে সেই তারকার ভবিষ্যত সম্পর্কে শোনা যাক।
যুক্তরাষ্ট্রের এক অবাক করা সাঁতারু – যার তিনটি রেকর্ড হয়তো ছাড়িয়ে যাওয়া কঠিন হবে। অলিম্পিকে সবচাইতে বেশী পদক জিতেছেন ২২টি। সবচাইতে বেশী সোনার পদক পেয়েছেন ১৮টি আর একটি অলিম্পিকে সবচাইতে বেশী সোনা জয়, ২০০৮ সালে বেজিং অলিম্পিকের ৮টি সোনার পদক জয়ী মাইকেল।
সমপ্রতি লণ্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কোন পদক জয় তার কাছে সবাচইতে স্মরণীয় ছিল? তিনি বলেন, ২০০৪ সালে এথেন্সে ৪শো মিটার মেডলীতে সোনা জয় । তার কথা – ‘সেটা যে কি কঠিন ছিল। ২০০৪ সালে ৪ শো মিটার মেডলীতে আমার প্রথম সোনার পদক । মানে কি জানেন, সারা জীবন ধরে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়া, লক্ষ্য একটি জয় করা, অবশেষে সোনার পদক জয়, মঞ্চে সবার উপরে দাঁড়ানো, জাতীয় সঙ্গীত কানে বাজছে, সে ছিল আমার জীবনের এক পরম সৌভাগ্য’।
আর লণ্ডন গেমসে ফেল্পসের লক্ষ্য ছিল অলিম্পিক পদক জয়ের সংখ্যায় রেকর্ড সৃষ্টি করা। গোড়াতে হতাশ হয়েছেন। ৪শো মিটার মেডলীতে চতুর্থ স্থানে ছিলেন। তারপর অবশ্য আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো। ২শো মিটার মেডলীতে সোনা জিতে নতুন উদ্যমে জলে নামলেন। এখন ২৭ বছর বয়সে প্রতিযোগিতার পুল থেকে বিদায়। কিশোর তরুনদের সাঁতারে উত্সাহিত করা, পানির নিরাপত্তা নিশ্চত করার লক্ষ্যে তার নিজস্ব ফাউন্ডেশনএর কাজে পুরোপুরি মনোযোগ দেবেন এবার। সবচাইতে বড় কথা যেমন ইচ্ছা সেইভাবে জীবনটাকে উপভোগ করবেন। ফেল্পসের বক্তব্য – ‘আমার পরবর্তী জীবনটা কেমন হবে তা নিযে কোন ভয় ভাবনা নেই;। আমি মনে করি ভালই হবে। আমি ২০বছর ধরে সাঁতার কেটেছি। এবং সম্পূর্ণ মনোযোগ সেদিকেই ছিল। যা কিছু পাওয়ার সবই পেয়েছি। এবং এখন আমার বিশ্বাস ইচ্ছে করলেই – মন দিয়ে চেষ্টা করলে যা চাইবো সবই করতে পারবো’।
এই মূহুর্তে এখনও অলিম্পিকের ঘোর কাটেনি…..বর্তমানের যে অভূতপূর্ব সাফল্য, তা দারুণ উপভোগ করছে মাইকেল ফেল্পস। আরও কিছুদিন যাক না। সবে মাত্র পাওয়ার আনন্দ, ঘরে ফেরা। তারপর দিনতো পড়েই রয়েছে। মাইকেল ফেল্পস অলিম্পিকের এক ইতিহাস সৃষ্টিকারী সাঁতারু, তার ভবিষ্যত কর্মসূচী হয়তো সবার দৃষ্টিতেই পড়বে।
XS
SM
MD
LG